লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় ভুয়া ব্যাংকার সেজে বিয়ের নামে প্রতারণা ও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নাজমুল হোসাইন সঞ্জু (৩৩) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পাটগ্রাম থানা পুলিশ।
প্রতারক নাজমুল হোসাইন সঞ্জু লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার দেবীপুর এলাকার হারুনুর রসিদের ছেলে।
নাজমুল হোসাইন সঞ্জু ৮ মাস আগে ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে পাটগ্রাম উপজেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার এক স্কুল শিক্ষিকাকে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করেন। এর আগেও একই কৌশলে আরও দুটি বিয়ে করে মেয়েদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়।
জানা যায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকার প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় ওই নাজমুল হোসাইন সঞ্জুর। সেই পরিচয় থেকে প্রথমে প্রেম তারপর গত ৩ মার্চ বিয়ে করেন তারা। বিয়ের সময় নাজমুল হোসাইন সঞ্জু নিজেকে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার সিনিয়র অফিসার হিসেবে পরিচয় দেন।
পরে বিভিন্ন সময় নানা কৌশলে নাজমুল হোসাইন সঞ্জু মেয়ে ও মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। গত ১৬ আগস্ট মেয়ে ও তার পরিবার বুঝতে পারে নাজমুল হোসাইন সঞ্জু একজন প্রতারক। ব্যাংকার বলে ভুয়া পরিচয় দিয়েছে অথচ তার আগের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।
গত ১৯ আগস্ট ওই মেয়ে বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় নাজমুল হোসাইন সঞ্জুর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে পাটগ্রাম থানা পুলিশ লক্ষীপুর পুলিশের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার রাতে লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার দেবীপুর এলাকা থেকে নাজমুল হোসাইনকে গ্রেফতার করে।
পাটগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) সুমন কুমার মোহন্ত বলেন, নাজমুল হোসাইন সঞ্জুর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা থানাও একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে। বিয়ে করে মেয়ে ও মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া তার কৌশল। নাজমুল হোসাইন সঞ্জুর এ পর্যন্ত ৩টি বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। নাজমুল হোসাইনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নুরনবী/এসএম





