বকেয়া বেতন বোনাসের দাবিতে বিজিএমইএ ভবনের সামনে বিক্ষোভ করা তোবা গ্রুপ শ্রমিকদের লাঠিপেটা করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় তোবা সংগ্রাম কমিটির মিছিল কারওয়ান বাজারে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় বাধা পার হতে গেলে ধাক্কা-ধাক্কি শুরু হয়। এ সময় পুলিশ কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে।
তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সঙ্গে থাকা ১৫টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে বিজিএমইএ ভবন ঘেরাওয়ের জন্য কারওয়ানবাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে সকাল থেকেই বিজিএমইএ ভবন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা নেয়া হয়।
পুলিশের রমনা জোনের এসি (পেট্রোল) ইমানুল হক বলেন, কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্যই এই সতর্কতা।
এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে শ্রমিকরা পিছিয়ে গিয়ে প্রবেশ পথের সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ শুরু করে।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বুধবার দুই মাসের বেতন দেয়ার কথা জানিয়ে অনশন ভাঙার আহ্বান জানানো হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
তোবাকর্মীদের পাঁচ দফা দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা সোমবার শ্রমমন্ত্রণালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। পরে তারা সচিবালয়ের সামনে পথসভা করেন।
এছাড়া তোবাকর্মীদের আন্দোলনে সংহতি জানানো ৩০টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সোমবার প্রেসক্লাবের সামনে প্রতীকী অনশন করেন।
তোবাকর্মীদের পাঁচ দফা দাবি হলো- শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম এবং ঈদের বোনাস অবিলম্বে পরিশোধ, তোবা গ্রুপের দেড় হাজারেরও বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য সব কারখানা সচল রাখা, যে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাদের সরকারিভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, তোবা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেলোয়ার হোসেনের জামিন বাতিল এবং তাজরীন গার্মেন্টসে হতাহত ও নিখোঁজ শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া।
গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির আহ্বায়ক তাসলিমা আক্তার সমাবেশে বলেন, “শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দিতে পারলে আমরা ধর্মঘট হরতালের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
তিনি বলেন, “শ্রমিকদের দাবি আদায়ের সঙ্গে যে সব সংগঠন সংশ্লিষ্ট নয়, তাদের সঙ্গে বিজিএমই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করেছে। যেসব দালাল এই চুক্তিতে অংশ নিয়েছে, তাদের আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।”
তিন মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও ঈদ বোনাসের দাবিতে গত নয় দিন ধরে বাড্ডায় কারখানা ভবনে অনশন চালিয়ে আসছেন তোবা গ্রুপের পাঁচটি কারখানার দেড় হাজারেরও বেশি শ্রমিক।
ঢাকা, ৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





