নড়াইলের সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সশস্ত্র হামলায় ৯ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছে। আহতদের একজন মুমুর্ষ অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের শড়াতলা গ্রামে।

সন্ত্রাসীদের ছোড়া আগ্নেয় অস্ত্রের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে শড়াতলা গ্রামের হাকিম মোল্লার ছেলে বখতিয়ার মোল্লা(৩৫)। তার অবস্থা খুবই আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বখতিয়ার মোল্যার ভাই রবি মোল্যা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলা দিয়েছে। মামলা নং-৭। মামলায় শড়াতলা গ্রামের আকলিজ ফকিরকে ১ নম্বর আসামী করে মোট ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজহার, এলাকাবাসিও ক্ষতিগ্রস্থদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮মার্চ) বিকেলে মামলার বাদী রবি মোল্যা, তার ভাই গুরুতর আহত বখতিয়ার সহ ১০/১২ জন পার্শ্ববর্তী বাদশার গ্যারেজ নামক বাজার হতে বাড়ি ফিরছিলেন।

পথিমধ্যে শড়াতলা গ্রামের আকলিজ ফকিরের বাড়ির নিকট পৌছালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই গ্রামের আকলিজ ফকির, ইকলাজ ফকির,বাকি ফকির, পারভেজ ফকিরের নেতৃত্বে এক দল সশস্ত্র লোক তাদের উপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলির ভয়ে সকলে দিক বিদিক ছুটতে থাকে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া ৪ টি গুলি লাগে বখতিয়ারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পায়ের রগ ও হাতের আঙ্গুল কেটে মৃত মনে করে পেলে চলে যায়। ২টি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঠেকাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন মামলার বাদী রবি মোল্যা একই গ্রামের পলাশ, ছাইফুল, শুকুর মৃধা, নাজমুল খা, হাদিয়ার শেখ, মোরশেদ শেখ ও মোতালেব।

আহতদের হাসপাতালে নিতেও বাঁধা দেয় সন্ত্রাসীরা। বাধ্য হয়ে আহতদের লোহাগড়া ও যশোরে বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মারাত্তক আহত বখতিয়ার মোল্যাকে প্রথম নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে তাৎক্ষনিক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা ঘটনার সময় হাদিয়ার শেখ ও আকরামের বাড়ি ভাংচুর করে।

আকরাম শেখ’র স্ত্রী রিসিনা জানান, তার শরীর হতে স্বর্নের চেন ও ঘর হতে নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সরজমিন ঘটনাস্থলে গেলে শড়াতলা গ্রামের ইবরাহিম শেখ’র স্ত্রী চম্পা, আকরাম শেখ, রবিউল মোল্যা, আব্দুল করিম মোল্যা, হাদিয়ার শেখ, সাহেব শেখ সহ আরোও অনেকে জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রাসেল মিয়া,পারভেজ ফকির,আফজাল ফকির ও জাহিদ শেখ এলাকায় মাদক ব্যবসা করে। তারা আগ্নেয় অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালায়। তাদের গুলিতে বখতিয়ার আহত হয়।

নিরীহ লোকজনের উপর অতর্কিত গুলি চালানো ও কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নড়াইল সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে গুলি করার ঘটনা ঘটেনি। এ পর্যন্ত উভয় পক্ষের ৫ জন আটক হয়েছে। এ দু’পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা রয়েছে। সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

হুমায়ুন কবীর/ মাহমুদ