টেলিকমিউনিকেশন লিংক নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে চুক্তি সই হওয়ায় শিগগিরই এই সিস্টেমটি চালু করার কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল)। খবর ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিসের।

বিএসএনএলের প্রধান ব্যবস্থাপক ডি পি সিং জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ সিস্টেম নিয়ে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদ এটি উদ্বোধন করতে পারেন। কক্সবাজারের ইন্টারনেট সার্ভিসেসের (আইজিআইএস) সঙ্গে আখাউড়া ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ের সংযোগের কাজ করা হবে। এই প্রক্রিয়াতে আখাউড়ার সঙ্গে কক্সবাজার ও ভারতের আগরতলাকে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল (ওএফসি) দিয়ে সংযুক্ত করা হবে।

গত ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) ও ভারত সমাচার নিগম লিমিটেড (বিএসএনএল) আখাউড়ায় ইন্টারনেটের আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ লিজ দেওয়ার ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ডিপি সিং সাংবাদিকদের বলেছেন, এতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কেবল বড় ধরনের পরিবর্তনই আসবে না, এতে গোটা ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারে অতিরিক্ত ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাবে।

ওই কর্মকর্তা ইন্দো এশিয়ান নিউজ সার্ভিসকে বলেছেন, ভারত সরকার এই ব্যান্ডউইথ অবকাঠামোর জন্য ১৯ দশমিক ১৪ কোটি রুপি খরচ করে বিএসসিসিএল থেকে ১০ জিবিপিএস ইন্টারনেট পাবে। এই ব্যান্ডউইথের জন্য প্রতি বছর আট কোটি রুপি (৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা) বিএসসিসিএলকে দেবে ভারত।

চার বছরের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার পর বিএসসিসিএল ও বিএসএনএলের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে বিএসএনএলের কর্মকর্তা বলেছেন।

এ বছরের এপ্রিল মাসে ভারতে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির বিষয়টি নিয়ে একটি চুক্তি সম্পাদনের প্রস্তাব বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইন্টারনেটের (জিরো পয়েন্টে) জন্য আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বরাদ্দ দিতে বিএসএনএল ও বিএসসিসিএলের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, রফতানির পরিমাণ ৪০ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। অব্যবহৃত ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করে বছরে ৯ দশমিক ৪২ কোটি টাকা সমমূল্যের ১ দশমিক ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবে বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বাড়বে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এবং ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেডের (বিএসএনএল) মধ্যে এই চুক্তি সই হবে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ লিজ ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় প্রতি সেকেন্ডে ১০ গিগাবাইট ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করবে।

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশে মাত্র ৩০ জিবি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহৃত হয় এবং বাকি ১৭০ জিবি অব্যবহৃত থাকে। ১৭০ জিবি ইন্টারনেটের মধ্যে বিএসসিসিএল ভারতে ১০ জিবি রফতানি করবে। এর পরও ১৬০ জিবি অব্যবহৃত থেকে যাবে। এই ১৬০ জিবি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে সাবমেরিন কেবল সম্প্রসারণে ব্যবহার করা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর পরও বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের কোনো সংকট হবে না।

সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানান, ভারতে ১০ জিবি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রফতানি করে প্রাপ্ত আয়ের এক-চতুর্থাংশ দিয়ে বিএসসিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদকাল হবে তিন বছর এবং সাবমেরিন কেবলের রুট কক্সবাজার ল্যান্ডিংস্টেশন থেকে শুরু হবে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার হয়ে ত্রিপুরার আগরতলায় গিয়ে শেষ হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ‘ইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ ৪ বা ‘সী-মি-উই ৪’ সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, ভারতীয় উপমহাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ অঞ্চলের ইন্টারনেটের মেরুদণ্ড মনে করা হয় এ সাবমেরিন কেবলকে।

ইআর