নরসিংদীর পলাশ থানার অন্তর্গত ডাংগা ইউনিয়নে সালিশে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ওপর হামলা চালিয়েছে স্থানীয় স্বশস্ত্র ক্যাডাররা।
হামলায় যুবলীগের এক নেতা গুলিবিদ্ধসহ মোট ৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া হাত ভেঙ্গে গেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ সভাপতির। ইউপি সদস্য মো. বাদলের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ডাংগা ইউনিয়নের কেন্দুয়াব গ্রামে এক গ্রাম্য সালিশকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৩ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টায় এই ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ইউনিয়ন যুবলীগের দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক আমীর হোসেন ভাণ্ডারী ঢাকা মেডিকেলে কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে, জখম হওয়া ইউনিয়ন যুবলীগের দুই সহসভাপতি আরিফ মিয়া ও বাবুল মিয়া আশিয়ান হাসপাতালে এবং হাত ভেঙে যাওয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি রাজন আহমেদ কালীগঞ্জ সদর হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, এইদিন গ্রামের জনৈক আজিজ ও জনৈক নাসিরের মধ্যে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিবাদের সালিশ ছিলো। নাছির পক্ষের আমন্ত্রণে আসেন বাদল মেম্বার ও সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। অন্যদিকে আজিজ সম্পর্কে ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেলের ভগ্নিপতি হওয়ায় তার আমন্ত্রণে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১০-১২ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে যায়।
এসময় সালিশের সভাপতি হিসেবে বাদল মেম্বার আজিজকে একটি প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়ার সময় তার ওপর হামলা চালায় নাসিরের পক্ষের লোকজন। আমন্ত্রিত ছাত্রলীগ নেতা রাজন তাদের বিরত করতে গেলে এসএস পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দেয় ক্যাডার বাহিনী।
এই ঘটনায় আজিজের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ করতে গেলে আরাফাত নামে একজন পিস্তল বের করে গুলি ছোঁড়েন। এতে গুলিবিদ্ধ হন যুবলীগ নেতা আমীর হোসেন ভাণ্ডারী। নাসিরের পক্ষের অন্য ক্যাডারদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হন যুবলীগের দুই সহসভাপতি আরিফ মিয়া ও বাবুল মিয়া।
আহত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পুরো হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বাদল মেম্বার। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সিরাজের স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। এই ব্যাপারে জানতে বাদল মেম্বারের নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘটনাস্থলে গেলে গ্রামটিকে পুরুষশূন্য অবস্থায় পায়। ফলে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
জেড





