বেআইনী জনতাবদ্ধ হয়ে হুমকি ও চুরির প্ররোচনায় দায়ের করা একটি মামলায় বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকারকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। তোপখানা রোডের মেহেরবা প্লাজা থেকে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পল্টন থানা পুলিশ।
বিজয়নগর এলাকার মো. রুহুল আরেফীন নামে এক ব্যক্তি গত ১১ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় ওই মামলা দায়ের করেন। রুহুল আরেফীন জাতীয় বধির সংস্থার ভবনের নিচ তলার একটি দোকান ২০ বছরের জন্য লীজ নিয়েছিলেন।

পল্টন থানার উপপরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান জানান, বিজয়নগরে জাতীয় বধির সংস্থার ৬ তলার একটি ভবনের বেইজমেন্ট ২০০৪ সালে ৬০ বছরের জন্য একটি দোকান লিজ নিয়েছিলেন আরেফীন। তৈমুর এই বধির সংস্থার সভাপতি। লিজ নেওয়ার পর কিছু অংশে মালামাল রাখলেও পুরো অংশ বুঝিয়ে না দেওয়ায় উচ্চ আদালতে একটি মামলা করেন আরেফীন। ১৪৩, ১৪৪, ৪৪৮, ৫০৬, ৩৮০ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বিজ্ঞপ্তি ওই ভবনে টাঙিয়েও দেওয়া হয়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর তৈমুর এবং তার লোকজন ওই বিজ্ঞপ্তি ভাংচুর এবং আরেফীনের যে মালামাল ছিল তা বাইরে এনে ফেলে দেন। এঘটনায় দায়ের করা মামলায় তৈমুর আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মেহেরবা প্লাজায় অ্যাডভোকেট তৈমুরের কার্যালয় রয়েছে, সেখান থেকে গ্রেফতারের পর তাকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছ বলে জানান তিনি।

গ্রেফতারের পর পল্টন থানায় জমায়েত হয় বধির সংস্থার ভবনের অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী। সেখানে বধির সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এএম জাহিদ হাসান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শামসুল আরেফীন, সহ-সভাপতি মাহমুদুর রহমান, সদস্য গাজী খায়রুল ইসলাম উপস্থিত হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ভাইসচেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মাহমুদা আক্তার খবর পেয়ে থানায় যান।
উপস্থিত বধির ব্যবসায়ীদের কথা শুনে দোভাষী মনোয়ার হাসান জানান, রাজনৈতিক কোনো কারণে তৈমুর আলম খন্দকারকে গ্রেফতার করা হলে তারা থানায় আসতেন না। চুরির মামলায় বধির সংস্থার সভাপতিকে গ্রেফতার করায় তারা থানায় এসেছেন। এবং তারা অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করে শ্লোগান দেন।
দোভাষীর মাধ্যমে বধির সংস্থার সহ-সভাপতি মাহমুদুর রহমান জানান, ১৯৮৬ সালে রুহুল আরেফীন নিচের একটি দোকান লীজ নেন ২০ বছরের জন্য। চুক্তি অনুযায়ী তার ক্যামিকেলের ব্যবসা করার কথা থাকলেও সম্প্রতি তিনি পাওয়ার প্লান্টের বৈদ্যুতিক দ্রব্যাদি বিক্রয় শুরু করেন।
সর্বসম্মতিক্রমে তার লীজ নেয়া দোকান নতুন করে লীজ দেয়ার কথা হলেও জোর করে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন রুহুল আরেফীন। তিনি তৈমুর আলমকে কোনঠাসা করতেই মিথ্যে মামলা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, বধির সংস্থার ভবন ভাড়া নেয়ার ঘটনায় তার ২০১৩ সালের হিসেব অনুযায়ী প্রতি মাসে ৩০ হাজার ৪৪ টাকা দেয়ার কথা। এ পর্যন্ত তার কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি। পাওনা টাকা না দেয়ার পায়তারা হিসেবে তিনি এই মামলা দিয়েছেন।
এব্যাপারে পল্টন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদ আলম টাইমনিউজবিডিকে বলেন, রাজনৈতিক কোনো মামলায় তৈমুর আলমকে গ্রেফতার করা হয়নি। গত ১১ সেপ্টেম্বর দায়ের করা চুরির মামলায় তাকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান তৈমুর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির আহ্বায়ক। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন, পরে দলীয় সিদ্ধান্তে ভোট বর্জন করেন।
ঢাকা, জেইউ, ১৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর





