জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের জন্য ড্রাইভারসহ গাড়ি বরাদ্দ এবং জ্বালানি প্রাপ্তির প্রাধিকার নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতিরা গাড়িতে সংসদের পতাকা ব্যাবহারের সুযোগ পেলেও তাদের জন্য গাড়ি, ড্রাইভার ও জ্বালানি বরাদ্দ নেই।
এ ছাড়া শুধু এসিল্যান্ড নয়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদেরও গাড়ি সুবিধা দেয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারের বাংলাদেশ বেতারে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি জট নিরসনে শিগগিরই সুপারনিউমারি পদ সৃজন করে পদোন্নতি প্রদানের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া জনমুখী জনপ্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুদ্ধাচারের ব্যাপক প্রসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আ স ম ফিরোজ, হাফিজ আহমদ মজুমদার, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, দীপংকর তালুকদার, পনির উদ্দিন আহমেদ এবং মোকাব্বির খান অংশ নেন।
বৈঠক শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করে কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান বলেন, সংসদীয় কমিটিগুলো কিন্তু সরকারের ওয়াচডক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু তারা সংসদে অফিস ও আপ্যায়ন ভাতা ছাড়া আর কিছু পান না। এ জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিকে গাড়ি ও ড্রাইভারের সঙ্গে জ্বালানি প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।
তবে এ সুপারিশের সঙ্গে দ্বিমত করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটি স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে সুপারিশ করতে পারে না। আর এ ধরনের সুপারিশ শুধু তার জন্য না, সব সংসদীয় কমিটির সভাপতির জন্য এটি পরিষ্কার করা উচিত।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংসদীয় কমিটির এক সভাপতি বলেন, এ ধরনের সুপারিশ করার আগে সব কমিটির সভাপতিদের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য (পারিতোষিক ও ভাতাদি) আদেশ, ১৯৭৩ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী, একজন এমপি সংসদীয় কমিটিতে উপস্থিত থাকলে যাতায়াত বাবদ কিলোমিটার (সড়ক পথে) প্রতি ১০ টাকা করে পান। এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার সময় যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয় সেই ঠিকানা অনুযায়ী তারা যাতায়াত ভাড়া পান।
যে এলাকা থেকে তিনি নির্বাচিত হন, সেই এলাকার ঠিকানা শপথের সময় ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া প্রতি বৈঠকে উপস্থিতির জন্য ১০০০ টাকা পান। এ ছাড়া সংসদীয় কমিটির সভাপতিরা সরকারি কার্যালয় ও অফিস খরচ পেয়ে থাকেন।
এএস





