অভাবের কারনে ভরনপোষন করতে না পেরে এক বাবা তার দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে বুড়িগঙ্গা নদীতে নিক্ষেপ করেছেন। তবে বেঁচে গেছে শিশুটি। এ ঘটনায় পিতা ফারুক হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে ফারুক হোসেন তার কন্যা সন্তানকে বুড়িগঙ্গা চীন মৈত্রী সেতুর উপর মাঝ নদীতে ছুড়ে মারেন। সেতু থেকে ২০০ ফিট নিচে পানিতে আছড়ে পড়ে শিশুটি। এসময় নদীতে চলাচলরত একটি নৌকার মাঝি পানিতে ঝাপিয়ে পড়ে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে।
ফারুকের স্ত্রী ফাতেমা জানান, ফারুকের সঙ্গে ৩ বছর পূর্বে ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের দেড় বছরের মাথায় ফারিয়ার জন্ম হয়। কয়েক মাস আগে মোকামপাড়া এলাকার আ. রব এর বাড়ির টিনসেডের একটি ঘর ভাড়া নেন তারা। অভাব অনটনের সংসারে সচ্ছলা ফেরাতে ফাতেমা ইট ভাঙার কাজ নেন। ফারুক ট্রাক চালকের সহকারি (হেলপার) হিসেবে কাজ করতো। এক মাস আগে চাকরি চলে গেলে বেকার হয়ে পড়েন ফারুক।
এই অবস্থায় ঘর ভাড়া দিতে না পারায় গত মাসের ১৫ তারিখে বাড়ির ম্যানেজার আ. মান্নান তাদের বের করে দিয়ে ঘরে তালা মেরে দেন। এমনকি ফারুকের গায়ে হাত তোলেন। নিরুপায় হয়ে ফাতেমা বাবা-মার কাছে চলে যান। তার বৃদ্ধ বাবা হাসনাবাদে ভাড়া থাকেন। ভরন পোষন দিতে না পেরে ফারুক কয়েক দিন নিরুদ্দেশ থাকেন।
সকাল ১০ দিকে হাসনাবাদ সেতুর নিচে ফারুকের সঙ্গে ফাতেমার দেখা হয়ে যায়। ফাতেমা এসময় ইট ভাঙ্গার কাজ করছিলো। ফাতেমা স্বামীর কাছে শিশু কন্যার জন্য খাবার ও দুধ কিনে দিতে বলেন। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ফারুক তখন শিশুটি মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে হত্যার চেষ্টা করে। এ যাত্রায় শিশুটি বেচে যায়।
আহত অবস্থায় ফারিয়াকে তার নানার বাসায় রেখে আসে ফাতেমা। পরে সকাল বেলা ১২টার দিকে শিশুটিকে তার নানার বাসা থেকে নিয়ে যায় ফারুক। কিছুক্ষন পর সে চীন মৈত্রী সেতুর উপর থেকে শিশুটিকে পানিতে ছুড়ে ফেলে। এসময় খেয়া নৌকার এক মাঝি নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে শিশুকে উদ্ধার করেন। নিজের সন্তানকে নদীতে ফেলার ঘটনায় হইচই পড়ে যায় হাসনাবাদে। কয়েক হাজার উত্সুক লোক শিশুটিকে দেখতে ভিড় করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবা ফারুক হোসেনকে আটক করে।
দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আফজাল হোসেন বলেন, শিশুটিকে উদ্ধার করে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে তার আঘাত গুরুতর নয়।
ঢাকা, ৩ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





