টানা একসপ্তাহের অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর,যমুনা, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও ধর্মপাশা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

সুরমা নদীর পানি প্রবেশ করেছে জেলা শহরের কয়েকটি এলাকায়। পাঠদান বন্ধ রয়েছে তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সরকারি হিসেবে বন্যায় জেলার ৫২টি ইউনিয়নে ১ লাখ ৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে পানি কমবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

এ দিগে সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে যমুনার পানির স্তর। ২০১৭ সালে ১৩৪ সেন্টিমিটার পানির রেকর্ড ভেঙে বর্তমানে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্ট এলাকার পানি বিপদসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটারে ওপরে অবস্থান করছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল মান্নার এ তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৭ সালে এ পয়েন্টে সর্বোচ্চ পানি বিপদসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে ছিল ১২১ সেন্টিমিটার ওপর।

জেলায় ১২ হাজার নলকূপ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কাশেম।

এদিকে বন্যায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে জামালপুরের ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কার্যত পানির নিচে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, বাসভবন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়সহ সব দাফতরিক কার্যালয় এখন পানির নিচে।এরইমধ্যে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে পানি উঠায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রেল লাইনে পানি উঠায় ঝুঁকি নিয়ে রেল চলছে। যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে রেল যোগাযোগও।

বন্যার কারণে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সাতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ইসলামপুর উপজেলায় ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর-উলিয়া রাস্তার খরকা এলাকায় কাঠের পুরনো সেতুটি বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে যাওয়ায় ইসলামপুর উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চত্বরও আশপাশের বাসাবাড়িতে একবুক পানি।

অপরদিকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদীর পানি বাড়েত থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, রাস্তা-ঘাট। গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে সুন্দরগঞ্জ, সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের চার লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

এএস