স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে মাওয়া লঞ্চঘাট এলাকা। স্বামী খুঁজছে স্ত্রীকে, মা খুঁজে বেড়াচ্ছে সন্তানকে, স্বজনরা খুঁজছে তাদের প্রিয়জনকে। কেউ খুঁজে পাচ্ছেন তার প্রিয়জনের লাশ। সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া দুই-একজনের সাক্ষাৎও মিলছে সেখানে।
মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌপথে পদ্মা নদীতে সোমবার বেলা ১১টার দিকে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে পিনাক-৬ নামের একটি লঞ্চ ডুবে যায়। এ পর্যন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে ১৮টি। এছাড়া অর্ধশতাধিক যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
মাদারীপুরের ধুরাইল খালিশীকান্দি এলাকার রাশিদা বেগম জানান, বাবার বাড়িতে ঈদ করে ঢাকা ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তার পরিবার। তার চার ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই মেয়ে ইমা (১৮) ও আফরোজা (১৬) নিখোঁজ রয়েছে। তারা দুইজনই মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী।
নিখোঁজ অনেক যাত্রীর স্বজনদের আহাজারিতে পদ্মা পাড়ের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। অধিকাংশ যাত্রীই ঈদ শেষে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী সবুজ স্বপরিবারে যাচ্ছিলেন ঢাকায়। লঞ্চ ডুবির পরে তিনি সাঁতরে উঠতে পারলেও তার মা ও মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলছিলেন, যদি জানতাম এমন হবে তাহলে দু-একদিন পরে ঢাকায় যেতাম।
সাহিনুর বেগম জানান, স্বামী সঙ্গের তিনি ঢাকায় আসছিলেন। লঞ্চ ডুবির পর তিনি ও তার স্বামী সাঁতরে তীরে আসতে পেরেছেন। তিনি জানান, লঞ্চটি প্রচণ্ড স্রোতের মধ্যে ডুবে যায়। অতিরিক্ত যাত্রী ছিলো লঞ্চে।
মাওয়া নদী বন্দরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর হোসেন ভূইয়া জানান, লঞ্চটি কাওড়াকান্দি থেকে যাত্রী নিয়ে মাওয়ার দিকে আসছিল। তাদের বেশির ভাগই ঈদের ছুটি শেষে ঢাকা ফিরে যাচ্ছিলেন।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশে থাকা লঞ্চ ও সি বোটের মাধ্যমে ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রীদের উদ্ধার করা হচ্ছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় প্রচণ্ড স্রোতের কবলে পড়ে লঞ্চটি ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা, ৪ আগস্ট (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই





