নরসিংদীতে ক্রেতা সেজে দোকানে ঢুকে ৩৫ ভরি ওজনের একগুচ্ছ সোনার চেইন নিয়ে উধাও হয়েছে চার নারী প্রতারক।

রোববার দুপুরে নরসিংদী জেলা শহরের সোনাপট্টির গোপাল জুয়েলার্সে এই অভিনব কায়দায় প্রতারণার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলা শহরে প্রায় দেড় শতাধিক সোনার দোকানে স্বর্ণালংকারে বেচা-কেনার ধুম পড়েছে।

প্রায় প্রতিটি সোনার দোকানেই এখন নারীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রোববার দুপুরে এমনই বেচা-কেনার মুহূর্তে প্রথমে একজন সুন্দরী নারী গোপাল জুয়েলার্সের ভিতরে ঢুকে। কিছুক্ষণ পর আরো তিনজন নারী ঢুকে দোকানে ঢোকে। তারা ভিতরে থাকা আরো কয়েকজন নারী গ্রাহককে ধাক্কা-ধাক্কি করে সরিয়ে দেয়।

এর মধ্যে একজন নারী দোকানীর কাছে সোনার চেইন দেখতে চায়। দোকানী একগুচ্ছ সোনার চেইন বের করে একটি চেইন খুলে নারীকে দেখতে দেয়।

ইতিমধ্যেই বাকি তিনজন নারী জরুরি কাজ দেখিয়ে দোকানীর কাছে কানের দুল ও আংটি দেখতে চায়। এ সময় দোকানী নারীদের কানের দুল ও আংটি দেখালে একজন নারী তাৎক্ষণিকভাবেই টাকা দিয়ে তিন আনা ওজনের একজোড়া দুল কিনে নেয়।

অপর নারী আংটি নিয়ে দামাদামি করার সময় চেইনের গ্রাহক প্রতারক সুন্দরী নারী কৌশলে চেইনের গুচ্ছটি তার পার্সের ভিতরে ঢুকিয়ে ফেলে। এ সময় আংটির গ্রাহক নারী অন্য একটি আংটি দেখানোর নির্দেশ করলে দোকানী ওই আংটিটি বের করতে যায়। এ সময় সুযোগ বুঝে প্রথম প্রতারক চেইনের গ্রাহক নারী চেইন নিয়ে দোকান থেকে কেটে পড়ে।

এরপর পর্যায়ক্রমে তিনজন প্রতারক নারীই বিভিন্নভাবে দোকান থেকে বেরিয়ে যায়। পরে অন্য নারী গ্রাহক চেইন কিনতে আসলে ধরা পরে যে চেইনের গুচ্ছটি নেই। পরে দোকানে সিসি ক্যামেরায় এই নারী প্রতারক দলের প্রতারণার ঘটনাটি ধরা পড়ে।

গোপাল জুয়েলার্সের মালিক সুবিনয় বাবু ও ননী গোপাল জানায়, প্রতারক নারী দল প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ধরে বিভিন্ন ছলচাতুরির মাধ্যমে প্রতারণা করে প্রায় ৩৫ ভরি ওজনের একগুচ্ছ সোনার চেইন যার আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ টাকা নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে নরসিংদী সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) কে এম আবুল কাশেম বলেন, এই নারীদের চিহিৃত করতে পারলে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

কেএইচ