কুষ্টিয়া বাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা শহরে বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের প্রায় তিন মাসেও শুরু হয়নি কাজ। অনুমোদনের দুই মাস পার হলেও কাজ শুরু না হাওয়ায় একদিকে যেমন বাড়ছে সড়কের নির্মাণ ব্যয়। অপরদিকে পূনরায় মুখ থুবড়ে পড়ছে এ প্রকল্প।

জানা যায়, চলতি বছরের গত ৬ জানুয়ারি ৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এনইসির সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। কুষ্টিয়াবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা পূরণের এমন খবরে আশায় বুকবাধে সুবিধাবঞ্চিত জনগণ। কিন্তু অনুমোদনের প্রায় তিন মাসেও সড়কের কাজ শুরু না হাওয়ায় সবার মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।

সুত্র জানায়, কুষ্টিয়া শহরে সৃষ্ট যানজট ও দুর্ঘটনা এড়াতে ১৯৮৬ সালের শেষ দিকে বাইপাস সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রতিবেদন পেশসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এ বাইপাস সড়কটি জেলা শহর থেকে ৪ দশমিক ৫০ কিলোমিটার অদূরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বটতৈল থেকে কুষ্টিয়া-ভেড়ামারা মহাসড়কের বারখাদায় সংযোগ স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটি নিয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে জমি অধিগ্রহণ করার সময় প্রকল্পটির কাজ থেমে যায়। মেয়াদের শেষ দিকে এসে ২০০৬ সালে তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেই ফলকটি দখল হয়ে গেছে।

২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের অন্যতম প্রতিশ্রæতি ছিল দ্রæত বাইপাস সড়কটি নির্মাণের। তবে সর্বশেষ মেয়াদে কাজ শুরু হয়নি প্রকল্পটির। আর বর্তমান আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফের নিরলস চেষ্টায় এই বাইপাস সড়কটি একনেকে পাস হয়।

আব্দুল মালেক নামের এক ট্রাকচালক বলেন, যদি বাইপাস সড়ক থাকতো তাহলে আর আমাদের কুষ্টিয়ার শহরের ওপর দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতো না। আর তাতে করে শহরের ভেতর এতো যানজটেরও সৃষ্টি হতো না। বাবুল নামের এক বাসচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুষ্টিয়ায় বাইপাস সড়কের বিশেষ প্রয়োজন। কেননা দূরপাল্লার পরিবহন এবং ট্রাক ও ট্যাঙ্কলরিগুলো বাইপাস সড়ক দিয়ে গেলে আর শহরের মধ্যে যানজটের সৃষ্টি হতো না।

কুষ্টিয়া নজরুল একাডেমির সভাপতি আবদুর রশীদ চৌধুরী বলেন, আমাদের এই কুষ্টিয়া শহরকে যানজটমুক্ত রাখতে বাইপাস সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা এই কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুট এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় ৩২টি জেলার গাড়ি চলাচল করে থাকে। বাইপাস সড়ক না থাকার কারণে প্রতিনিয়তই কুষ্টিয়া শহরে দুর্ঘটনা ঘটছে। যদি বাইপাস সড়ক থাকে তাহলে আর কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে না বলেও তিনি মনে করেন।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ আশ্বাস দিয়েছিলেন এই কুষ্টিয়ার মানুষের জন্য বাইপাস সড়ক নির্মাণ করবেন। শুধু তাই নয়, এই বাইপাস সড়কটি কুষ্টিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের চাওয়া পাওয়ার একটা অংশ ছিল।

কুষ্টিয়া আঞ্চলিক সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেবদয়াল সরকার বলেন, কুষ্টিয়া শহরতলীর সাড়ে ৪ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া-খুলনা-চুয়াডাঙ্গা সড়কের বটতৈল হতে কুষ্টিয়া-রাজশাহী-মেহেরপুর সড়কের বারখাদা ত্রিমাহনীতে গিয়ে ফাঁকা মাঠের মধ্যদিয়ে বাইপাস সড়কের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বাইপাস সড়কটি হলে শহরের বাইরে দিয়ে দূরপাল্লার পরিবহন ও ট্যাঙ্কলরিগুলো চলাচল করবে। তাহলে শহরের মধ্যে আর কোনো যানজটের সৃষ্টি হবে না।

কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার জানান, ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। শুধু জমি অধিগ্রহণের পর জমির মালিককে কিছু ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করলেই জমি অধিগ্রহণ করতে পারবো আমরা। একনেকে ৭৮ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে এই বাইপাস সড়কের। আমরা খুব শিগগিরই এই বাইপাস সড়কের কাজ শুরু করতে পারবো।

এমএইচ