দ্বিতীয় দফা ভোটার তালিকা হালনাগাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ   গত ১৫ থেকে ২৪ জুন শেষ হয়েছে। কিন্তু আশানুরুপ নতুন ভোটাররা এ হালানাগাদে সাড়া দেয়নি। আর তাই নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে একটি কার্যপত্র তৈরি করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর কার্যপত্র অনুযায়ী, রোববার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের দ্বিতীয় দফায়  দেশের ২১৮ টি উপজেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। আর এখন চলছে রেজিস্ট্রেশনের কাজ। চলবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। 

চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদে বিভিন্ন উপজেলায় শতকরা দুই থেকে তিনভাগ নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের টার্গেট অনুযায়ী নতুন ভোটাররা এ হালানাগাদে সাড়া দেয়নি। আর তাই নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে একটি কার্যপত্র তৈরি করা হয়েছে।

কার্যপত্র অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যান -মেম্বারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ( ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের) সাথে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চাইতে বলা হয়েছে।

এছাড়া   রাজনৈতিক নেতাদের কর্মী বাহিনীর মধ্য থেকে এখনও যারা  ভোটার হয়নি তাদের ভোটার হওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের যেসব ভোট কেন্দ্রে ছবি তোলার কাজ ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলছে সেখানে গিয়ে ভোটার হওয়ার জন্য যোগাযোগ করার জন্য তাদের ( রাজনৈতিক নেতাদের) অনুরোধ  করতে বলা হয়েছে। এছাড়া মন্দিরসহ সামজিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে সহযোগিতা চাইতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে মসজিদের ইমামদের কাছে গিয়ে নতুন ভোটাররা কেন ভোটার হবেন তার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইমামদের আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন কাজ চলবে। এ সময়ের মধ্যে যারা ভোটার হননি তাদেরকে ভোটার হওয়ার জন্য অনুরোধ করতে বলা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতে কি করণীয় তা নির্ধারণ করতে রোববার(আজ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), কমিশনারগণ, ইসি সচিবসহ নির্বাচন কমিশনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বৈঠক করেন। বৈঠকে সবার মতামত নিয়ে নতুন ভোটার বাড়ানোর জন্য একটি কার্যপত্র তৈরি করা হয়। 

এতে আরো বলা হয়েছে, নতুনদের আগ্রহ বাড়াতে ভোটার হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে মোবাইল ফোনে শর্ট ম্যাসেজ সার্ভিস (এসএমএস)পাঠানো হবে। এ জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সহযোগিতা চেয়ে সোমবার (আগামীকাল) চিঠি দেয়া হবে।

এছাড়া যেসব এলাকায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলছে সেসব এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়েও প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেয়া হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এনজিওর মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ৪৬ লাখ নতুন ভোটারকে তালিকাভুক্ত হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু প্রথম-দ্বিতীয় দফা ভোটারদের তেমন সাড়া না মেলায় সিইসিসহ কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এ কৌশলপত্র তৈরি করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের  কার্যক্রমে প্রচারণা খুব কম হয়েছে। এজন্য অনেক এলাকার ভোটার বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়নি। তাই নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করার জন্য জেলা –উপজেলা কর্মকর্তাদের চিঠি দেয়া হয়েছে।

সারাদেশে তিন দফায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ হবে। প্রথম দফায় ১৮১ উপজেলায়, দ্বিতীয় দফায় ২১৮ ও তৃতীয় দফায় ১১৫ উপজেলায় হালনাগাদ কার্যক্রম চলবে। দ্বিতীয়  দফায়  গত ১৫ থেকে ২৪ জুন  তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।  আর রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলবে ১৮ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর তৃতীয়  দফায় ভোটারের তথ্য সংগ্রহ হবে ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর।

নতুন ভোটার হতে হলে জন্ম নিবন্ধন সনদ, জমির দলিল, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, বাড়ি ভাড়ার রসিদ/বিদ্যুৎ বিলের কপি,পাসপোর্ট,পিতা/মাতা/স্বামী/স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দেখাতে হবে।

ঢাকা,এএম, ১৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ