রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির কারণে মাঝে কয়েকদিন শিক্ষকদের উপস্থিতি কম দেখা গেলেও আজ কর্মসূচিতে লোক সমাগম বেড়েছে। পল্টন মোড় থেকে হাইকোর্ট অভিমুখী সড়কের কদম ফোয়ারা পর্যন্ত সড়কের একপাশ পুরোপুরি বন্ধ। অন্যপাশে কিছু যান চলাচল করলেও সেখানে শিক্ষকদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

ধামরাই থেকে আসা শিক্ষক তানিয়া আক্তার বলেন, ‘বিসিএস ক্যাডারের সমমর্যাদা পেতে তো এ আন্দোলনে আসিনি। আমরা এসেছি, বৈষম্য নিরসন করার দাবি নিয়ে। শিক্ষামন্ত্রী একের পর এক এলোমেলো কথা বলে যাচ্ছেন। উনি চাইলেই আমাদের দাবি পূরণ সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীর অনড় অবস্থানের কারণে প্রধানমন্ত্রীও আমাদের দাবি পূরণে সাড়া দিচ্ছেন না বলে শুনেছি। শিক্ষামন্ত্রীকে বলবো, আপনিও নারী, আমরাও অসংখ্য নারী এখানে এসেছি। টানা ২০টা দিন গরমে রাস্তায় বসে আছি। আমাদের দিকে তাকিয়ে হলেও একটা যৌক্তিক পদক্ষেপ নিন।’

বরিশাল থেকে আসা সমীর কুমার দেব বলেন, ‘আমরা শূন্য হাতে ফিরতে চাই না। আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবো। দাবি আদায় না করে ফিরে যাবো না। আমাদের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও জাতীয়করণ দাবির সঙ্গে একমত। তারাও এ দাবি পূরণ না করলে ক্লাসে আসবে না।’

এদিকে, শিক্ষকরা আজ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিতে পারেন বলে জানা গেছে। আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা জানান, এবার তারা একটা আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি করবেন। কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনের কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে।

বাংলাদেশ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহেমদ বলেন, কর্মসূচি নিয়ে আমাদের আলাপ-আলোচনা চলছে। আমরা সব সংগঠন মিলে একটা সমন্বয় কমিটি করেছি। সরকারকে আলটিমেটাম দিয়ে একটা কর্মসূচি দেওয়া হবে। সেটা আমরণ অনশনও হতে পারে।

গত ১১ জুলাই থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এর মধ্যে তাদের সঙ্গে এক দফা বৈঠকও করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি জানিয়ে কর্মসূচিতে অনড় শিক্ষকরা।

অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে আমরা দুটি কমিটি করেছি। এটা নিয়ে কাজ চলছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা অস্থিতিশীল। এর মধ্যে শিক্ষকদের রাস্তায় না থেকে ক্লাসে ফেরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

এমবি