নারায়ণগঞ্জের সাত খুনে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবাররা। জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বুধবার দুপুরে এ দাবি জানানো হয়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের ভাই আবদুস সালাম এ দাবি করেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলানায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি। মানবাধিকার দিবস-২০১৪ উপলক্ষে আয়োজিত সভার শিরোনাম ছিল- ‘মানবাধিকার হরণ : এ কী পরিস্থিতিতে দেশ।’

নজরুলের ভাই বলেন, ‘সরকার জনগণের নিরাপত্তার জন্য প্রাশাসন নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু তারাই আমার ভাইকে হত্যা করছে। এই মামলার এজহারভুক্ত আসামি নুর হোসেন এখনও বিদেশে আছে। শুনেছিলাম তাকে দেশে আনা হবে। আজ আট মাস হলো তাকে দেশে আনা হয়নি। দ্রুত তাকে দেশে আনার ও এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলের শাস্তি দাবি করছি।’

সভায় বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘মানবধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণ সংঘাতময় রাজনীতি। রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে এই সব মানবধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। গুম-খুন, নারী হত্যা-ধর্ষণ, জমিদখলের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশে যতগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে তার দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়ে মকসুদ বলেন, ‘যে সকল মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে প্রত্যেকটার দুটি করে তদন্ত হওয়া উচিৎ। একটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করবে। আরেকটি করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। দুটির তদন্ত রিপোর্টের সমন্বয়ে বিচারের আওতায় আনলে দোষীদের ন্যূনতম শাস্তি দেওয়া যাবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো একটু হলেও শান্তি পাবে।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘‘যারা মানবাধিকার কর্মী তারা আজকে এ সরকারের বাহিনী হিসাবে কাজ করছে। সরকার বলছে- ‘দেশের মানুষ শান্তিতে আছে’ যেখানে নয় মাসে গুম-অপহরণ হয়েছে ৮২ জন। যদি মানুষ শান্তিতেই থাকত তাহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা আসত না।”

মান্না বলেন, ‘সারা দেশ ক্ষমতাসীনরা ঘিরে রেখেছে। শুধু কথা বলার জন্য রেখেছে প্রেস ক্লাব ও তার সামনের অংশ। এইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৬ কোটি মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।’

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘মানবাধিকার হরণ হবে এ কথা শোনার জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। আজকে আমাদের মানবাধিকার নিয়ে উল্লাস করার কথা ছিল। কিন্তু মানবাধিকার হরণের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হচ্ছে।’

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষে শহীদ আলী বাবুল, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পক্ষে হিরণ মিত্র চাকমা প্রমুখ।

জেআই