শব্দদূষণ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন একে ‘শব্দ-সন্ত্রাস’ নামে অভিহিত করা যায়। অপদস্থ হওয়ার ভয়ে বেশির ভাগ মানুষ কোথাও অভিযোগ না করে নির্বিবাদে উচ্চশব্দের ভয়ংকর যন্ত্রণা সহ্য করছেন।
আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে উচ্চশব্দ নিয়ে এক আলোচনায় এসব কথা বলা হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্ট, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ও সুন্দর জীবন ‘শব্দদূষণ এখন জীবনবিনাশী শব্দ-সন্ত্রাস; গভীর সংকটে আমাদের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য! সমাধানের উপায় কী?’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করে।
আলোচনার শুরুতে লিখিত বক্তব্য পড়েন বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। তিনি বলেন, উচ্চশব্দের প্রধান উৎস যানবাহনের অহেতুক হর্ন, ভবন নির্মাণের সামগ্রী, মাইক আর ইট গুঁড়া করার যন্ত্র। তবে গায়েহলুদ, বিয়ে, জন্মদিন, নববর্ষ, ইত্যাদি সামাজিক অনুষ্ঠানে অতি উচ্চমাত্রার শব্দ সৃষ্টিকারী সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়।
এতে প্রতিবেশীদের রাতের ঘুম হয় না, হৃদ্রোগীদের হৃৎকম্পন বেড়ে যায়, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক ক্ষতি হয়। মানুষের কর্মক্ষমতা কমছে, গর্ভবতী মা ও শিশুদের ওপর উচ্চশব্দের প্রভাব আরও মারাত্মক।
আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, শব্দদূষণ বন্ধে সরকারের কোনো আগ্রহ নেই। আইনকে তারা প্রয়োগ করতে চায় না।
করে না কারণ, তাদের গোষ্ঠীগত, জাতিগত, মাঠপর্যায়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের কিছু স্বার্থ আছে, দুর্নীতি আছে। এদিকে মানুষও আইন মানতে চায় না।
শব্দদূষণে ক্ষতি প্রসঙ্গে ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক এম আবু সাঈদ বলেন, গর্ভাবস্থা থেকেই উচ্চশব্দ শিশুর ক্ষতি করে।
শিশুর নার্ভ সিস্টেম বিকাশে বাধা পায়। তা ছাড়া উচ্চশব্দে শিশু বড় হতে থাকলে মানসিক বিকাশ তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ই।
ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা মারুফ রহমান ২০০৬ সালের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার কয়েকটি ধারা সংশোধনের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিধিমালায় যে অঞ্চলের কথা বলা আছে, স্পষ্ট নয়। কারণ, দেশে বিভাগীয় শহরগুলো এমনভাবে গড়ে উঠেছে, তাতে কোনটা আবাসিক, কোনটা নীরব, কোনটা শিল্প—তা বোঝা যায় না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক রেজওয়ানুল হক বলেন, বিএসএমএমইউর কার্ডিয়াক নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) শাহবাগ রাস্তার কাছাকাছি।
উচ্চশব্দে সেখানে রোগীদের ঘুম হয় না, সুস্থ হতে সময় লাগে। তাঁদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
এমআর





