ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রীসভা থেকে চূড়ান্ত ভাবে অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোশারেফ হোসেন ভূঁইঞা।
রোববার বিকালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারনের অনুমতি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে সেদেশে বসবাসরত টাঙ্গাইলবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তবলীগ জামাতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয় সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে সমালোচনার ঝড় তোলেন।
তিনি বলেন, আমি হজ আর তবলীগ জামাতের ঘোরতরবিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তবলীগ জামাতের বেশি বিরোধী। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাংবাদিকদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোন কাম নাই। এদের কোন প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।
তবলীগ জামাতের সমালোচনা করে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তবলীগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোন কাজ নেই। সারাদেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। ‘জয় ভাই’ কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নন। তিনি কোন সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন।
টক শো-তে যারা অংশ নেন তাদের টক মারানি আখ্যা দিয়ে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, নিজেদের কোন কাজ না থাকায় ক্যামেরার সামনে গিয়ে তারা বিড়বিড় করে আর কোন কাজ নেই।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বার বার উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক সাংবাদিককে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কি তোমার মতো কথা বলব। আমি আমার মতো কথা বলব। তুমি এখানে আসলা কেন, তোমাকে কে বলেছে আসতে?’
প্রবাসীদের উদ্দেশে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আপনারা বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে এবং সবসময় কামলাই দেবেন। প্রবাস থেকে প্রকাশিত পত্রপত্রিকাগুলোকে টয়লেট পেপার বলে মন্তব্য করেন।
এমআর





