রাজধানীর তুরাগে এক মা তার তিন সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টার মধ্যে যে কোন সময় এই ঘটনা ঘটেছে।
তুরগের কামার পাড়ার কালিয়ারটেক এলাকার একটি টিনশেড ঘরে এ ঘটনা ঘটার পর সেখানে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভিড় করেছে।
পুলিশ জানায় নিহতরা হলেন, রেহেনা বেগম (৩৪), তার তিন সন্তান শান্তা (১৪), শেফা (২) ও ছেলে সাদ (১১ মাস)। রেহেনার স্বামী সোস্তফা কামাল কামার পাড়া এলাকায় একটি কল্যাণ সমিতির অফিসে চাকরি করেন বলে জানা গেছে।
তুরাগ থানার ওসি মাহবুবে-এ-খোদা জানান, রেহেনার স্বামী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত শোয়াবারটার দিকে বাসায় ফিরে দেখেন বিছানায় তিন সন্তানের মৃতদেহ পড়ে রয়েছে।
ঘরের সিলিঙয়ের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে রেহেনা ঝুলছে। পরে বাড়ির মালিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থানে পৌছায়।
ওসি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে সন্তানদের শ্বাসরোধে হত্যা নিশ্চিত করার পর তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রাতে লাশগুলি ঘটনা স্থলে রাখার পরে আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে আরো জনাযায়, পারিবারিক অভাব-অনটন বা দাম্পত্য কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।এ ব্যাপারে থানায় এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি।তবে তুরাগ থানার ওসি বলেছেন,নিহতের স্বামীকে বাদী করে মামলা করা হবে।
নিহত রেহেনার ভাই মাহবুব আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, এই চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, কালিয়ারটেকের বাড়িটি তাঁর ভগ্নিপতি (রেহেনার স্বামী) মোস্তফা কামালের পৈতৃক সম্পত্তি।
তাঁদের সম্পত্তির একটি অংশ ১৭ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। কিন্তু এই টাকার অংশ মোস্তফা কামালকে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে রেহেনার সঙ্গে মোস্তফা কামালের মা, দেবর, ননদ ও ননদের স্বামীর প্রায়ই ঝগড়া হতো। এরই জের ধরে রেহেনা ও তাঁর সন্তানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ এই বিষয়ে রহস্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত চালাচ্ছে।
জেড





