বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে আমন ক্ষেতে পাতামোড়া ও মাজরা পোকার ব্যাপক আক্রমণ দেখা দিয়েছে। উপজেলা পৌরসভাসহ ১৬ ইউনিয়নের অধিকাংশ জমিতে এর প্রার্দুভাব ছড়িয়ে পড়েছে। পোকার আক্রমনে ফসলহানীর আশঙ্কায় কৃষকরা এখন দিশেহারা । বাজারজাতকৃত কীটনাশক প্রয়োগ করেও আশাপ্রদ ফল পাচ্ছেনা চাষীরা।

সরেজমিন ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। প্রতি ইউনিয়নের আমন ক্ষেতে কম বেশি এ পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। যেখানে মাঠে থাকবে সবুজের সমারোহ সেখানে মাঠের পর মাঠ ফসল বিবর্ণ হয়ে পাতা খঁড় কুটার সাদৃশ্য হয়ে পড়েছে। আমন ক্ষেতের পোকার ব্যাপক আক্রমনে দিশেহারা  কৃষকরা বাজারের কীটনাশক প্রয়োগ করে তেমন কোন সুফল পাচ্ছেনা।

এছাড়াও বাজারের রয়েছে কৃত্রিম সার সংকট। এহেন পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা  কিংবা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের (রক্ষক সুপারভাইজার) উল্লে­খযোগ্য কোন তৎপরতা নেই। মাঠ পর্যায়ে এসব কর্মকর্তাদের সাথে কৃষকদের দূরত্বের কারণে পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। ফলে পোকার আক্রমন এখন সংক্রামন আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা  দিয়েছে।

সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সরালিয়া গ্রামের কৃষক সরোয়ার হোসেন, ফজলুর রহমান, সোহরাব হোসেন, লতিফ শেখ জানান, চলতি মৌসুমে বিঘা প্রতি জমিতে ভাড়ার ট্র্যাক্টর দিয়ে জমি চাষ, বীজ সার কিনে ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে তার একভাগও ফলন থেকে পাওয়া যাবেনা।

তারা আরো বলেন, এর রক্ষকের দায়িত্বে নিয়োজিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অধিকাংশ কৃষকরাই চেনেনা। এসব  কর্মকর্তাদের প্রতিদিনই অফিস চত্বরসহ হাট বাজারে নিজ¯ কাজে ঘুরতে ফিরতে দেখা যায় বলে কৃষক আব্দুর রব জানান। তাদের কাছ থেকে সংকট মুহুর্তেও কোন পরামর্শ পাওয়া যায়না।

ইউপি সদস্যা জাহানারা আকতার খুকি, চাষী মামুন ও মাসুম হোসেন জানান, বাজারে চাহিদা মত সার কিংবা ঔষধ নেই। বাজার থেকে যে কীটনাশক পাওয়া যায় তাতে তেমন কোন সুফল নেই। তাছাড়া কীটনাশক প্রয়োগের জন্য স্প্রে মেশিনের দুষ্প্রাপ্যতা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এইচ এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, অনাকাঙ্খিত এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও কৃষকদের যথাযথ  পরামর্শ  প্রদানের জন্য বক্ষকের সংশি­ষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এ অবস্থায় ইউরিয়া সার প্রয়োগ না করার জন্য তিনি কৃষকদের আহবান জানান। বাজারজাতকৃত অধিকাংশ কীটনাশক নিম্নমানের তাই এর কার্যকারিতাও অনেক কম বলে তিনি বলেন।

উদ্বদ্ধু পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে উর্ধতান কর্তৃপক্ষকে  জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।

জেআই