রাজধানীর মিরপুর রূপনগরের বাসায় পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি জাহাঙ্গীর ওরফে মুরাদ ওরফে মেজর মুরাদের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষ হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল এ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

শনিবার বেলা ১টা ৫০ মিনিটে ময়নাতদন্ত শুরু হয়। শেষ হয় বিকাল ৩টায়।

ময়নাতদন্ত শেষে ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, নিহত মুরাদের শরীরে মোট ৯টি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুলিগুলো শরীরের এক দিক দিয়ে ঢুকে অন্য দিক দিয়ে বের হয়ে গেছে।

তিনি জানান, ৩টি গুলি তার মাথায় লেগেছিল। বাকিগুলো লেগেছে শরীরের বিভিন্ন স্থানে। গুলিগুলো করা হয়ে দূর থেকে।

ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, মৃত্যুর আগে সে শক্তিবর্ধক কোনো দ্রব্যাদি পান করেছিল কি না তা জানতে তার ভিসেরা করা হবে। এ জন্য তার রক্ত মহাখালীর রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে।

মুরাদের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির জন্যে তার চুল এবং রক্তসহ অন্যান্য উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান ময়নাতদন্তকারী এ চিকিৎসক।

এদিকে রূপনগর থানার এসআই আবদুল হক লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে তিনি মুরাদকে অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ সময় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর শামীম আহমেদ ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট মো. পারভেজ হোসেন তার লাশের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করেন।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে এক অভিযানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডার মুরাদ।

অভিযানের সময় মুরাদের গুলিতে আহত হন রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ সহিদ আলম, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহিন ফকির, উপরিদর্শক মোমিনুর রহমান ও সহকারী উপরিদর্শক বোখারী।

আহত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সৈয়দ সহিদ আলম এবং মো. শাহিন ফকিরকে অপারেশন শেষে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। অন্যদের রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এমবি