ভারত থেকে বানের পানিতে ভেসে আসা সেই বুনো হাতিটিকে অবশেষে অচেতন করে ডাঙায় তোলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়রা গ্রামে ট্রাংকুলাইজার বন্দুক থেকে ডার্ট ছুড়ে হাতিটিকে অচতন করা হয়। এরপর জনতা হাতিটিকে টেনে ডাঙায় তোলেন।

বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক মাস ধরে উদ্ধার চেষ্টার পর ভারতীয় বুনো হাতিটিকে ধরার প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় এটিকে অচেতন করা হয়েছে। এখন নিরাপদ জায়গায় নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বন অধিদফরের সাবেক উপপ্রধান বন সংরক্ষক তপন কুমার দে’র নেতৃত্বে বন বিভাগের উদ্ধারকারী দল স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় হাতিটি উদ্ধার করে।

উদ্ধারকারী দলে থাকা ভেটেরিনারি সার্জন সৈয়দ হোসেন বলেন, কামরাবাদ ইউনিয়নের একটি নদীর পাড়েই হাতিটিকে ডার্ট ছোড়া হয়। এরপর হাতিটি প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা ঘুরে কয়রা গ্রামের একটি ডোবায় পড়ে। স্থানীয়দের সহায়তায় রশি দিয়ে টেনে ডাঙায় তোলা হয়েছে হাতিটিকে।

তিনি জানান, আজ বিকাল ৪টার দিকে হাতিটির হুঁশ ফেরার কথা। তবে তার জীবননাশের কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বলে উদ্ধারকারীদল নিশ্চিত করেছে।

হাতিটি উদ্ধারে আসা ভারতীয় প্রতিনিধি দল বিফল হয়ে ফিরে যাওয়ার দুদিন পর বাংলাদেশী উদ্ধারকারীরা সফল হল।

বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাতিটি উদ্ধারের পর নিয়ে যাওয়া হবে বাংলাদেশের কোনো সাফারি পার্কে। পরে গারো পাহাড়ের বনে ছেড়ে দেয়া হবে, যাতে ভারত থেকে আসা হাতির পালের সঙ্গে এটি চাইলে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ভারতের আসাম রাজ্য থেকে বন্যার পানিতে হাতিটি ভেসে আসে। গত ২৮ জুন বন্য হাতিটি ব্রহ্মপুত্র নদ বেয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। এরপর বগুড়ার সারিয়াকান্দি হয়ে যমুনা নদীর পানিতে ভেসে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মনসুর নগর ইউনিয়নের দুর্গম ছিন্নার চরে ১১ দিন অবস্থান করে। ২৭ জুলাই হাতিটি সরিষাবাড়ী উপজেলায় আসে। তখন থেকে হাতিটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছিল।

এমবি