ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যাকবলিত পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে।

ব্রহ্মপুত্রের পানি রবিবার দুপুর পর্যন্ত ৯ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৭ সে.মি. ও ঘাঘট নদীর পানি ৪ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬০ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া করতোয়া ও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার সামান্য নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল।

এদিকে, সদর উপজেলার ঘাগোয়া ও গিদারী ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দী লোকজন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পানি ভেতরে ঢুকে পড়ায় গোটা জেলায় আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

অপরদিকে, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২১ হাজার ৪০০ পরিবারের ৯০ হাজার মানুষ ২১ দিন থেকে পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

বন্যাদুর্গত এলাকায় রবিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, বন্যাদুর্গতদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানীয় জল, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। মাঠঘাট সব বন্যার পানিতে নিমজ্জিত থাকায় উঁচু স্থানে গরু-ছাগল নিয়ে অবস্থান করছেন বানভাসিরা।

ভানবাসি আয়নাল হক, আবেদ আলী ও চান্দু মিয়া জানান, চাহিদামত খাদ্য দিতে না পারায় পশু-পাখির চেহারা নড়বড়ে হয়েছে। মজুদ খাদ্য শেষ হওয়ায় পানিবন্দী মানুষজন খাদ্য সংকটে পড়ে ত্রাণের আশায় চেয়ে রয়েছেন। খাবার পানির উৎসগুলো নিমজ্জিত থাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাবে বাধ্য হয়ে বন্যার নোংরা পানি পান করতে হচ্ছে।

খোর্দ্দার চরের ইলিম উদ্দিন, কাজিয়ার চরের লাল চান্দ দুলা মিয়াসহ অনেকে জানান, নৌকা দেখলেই মনে হয় ত্রাণ এসেছে। কিন্তু ত্রাণের আশা দূরাশামাত্র। এ পর্যন্ত যে পরিমাণ ত্রাণ বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে তা বানভাসি ৮০ ভাগ মানুষের ভাগ্যে জোটেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক আবদুল আউয়াল জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি ৯ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ৫৭ সে.মি. ও ঘাঘট নদীর পানি ৪ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬০ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া করতোয়া ও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেলেও বিপদসীমার সামান্য নিচে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আবদুস সামাদ জানান, জেলায় বন্যাদুর্গতের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। বন্যার্তদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

জেআই