ব্লগার অভিজিত রায় হত্যায় ৫ জন অংশ গ্রহন করেছিলেন বলে জানিয়েছেন র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র্যাব) এর মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কর্ণেল মুফতি মাহমুদ।
মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব প্রধান কার্যালয়ে সোমবার রাতে অভিজিত-অনন্ত হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া তিনজনের ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, ব্লগার অভিজিত ও অনন্ত বিজয় হত্যার পর বিভিন্ন প্রকারের তথ্য প্রমান আমাদের হাতে আসে। সেগুলো পর্যালোচনা করে র্যাব গোয়েন্দারা এই তিনজনকে সনাক্ত করতে পারে সোমাবার রাতে রাজধানীর নীলক্ষেত ও ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
মুফতি মাহমুদ বলেন, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানাযায় যে কোন কিলিং মিশনের সিদ্ধান্ত আসতো জেলখানায় বন্দি আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান জসিমুদ্দিন রহমানির মাধ্যমে। আর এখবর গুলো জসিমুদ্দিন রহমানির কাছ থেকে তার ছোট ভাই বাশার রহমানি তার কর্মীদের কাছে পৌঁছেদিত। একাজে তাকে সহযোগিত করতো সাদেক আলী।
তিনি আরো জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারী রাতে অভিজিত হত্যার সময় ৫জন একাজে সমন্বয় করে। তাদের মধ্যে নাঈম ও রমজান নামের দুই জন সরাসরি চাপতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আর বাঁকি তিনজন পার্শ্বে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে। কাজ শেষে তারা তিনজন দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদে গিয়ে টুইটারে 'আনসারুল্লাহ বাংলাটি ৭' নামে পোষ্টটি দেয়।
ঠিক একই ভাবে সিলেটে আরেক ব্লগার অনন্ত বিজয়কেউ হত্যা করে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মুক্তমনা ব্লগের লেখক অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হামলায় আহত হন তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায় শাহবাগ থানায় মামলা করেন।
হত্যায় জড়িত সন্দেহে ২ মার্চ যাত্রাবাড়ী থেকে শফিউর রহমান ওরফে ফারাবী নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করে র্যাব। ফারাবীকে দুই দফা রিমান্ডে নেওয়া হয়।
অপরদিকে ১২ মে সকালে সিলেট নগরের সুবিদ বাজারের নূরানী আবাসিক এলাকার চৌরাস্তা মোড়ে খুন হন বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ। ওই দিন রাতে বিমানবন্দর থানায় অনন্তর বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।
প্রায় তিন সপ্তাহ পর মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) স্থানান্তর করা হয়। সিআইডি তদন্তে নেমে ইদ্রিস আলী নামের এক স্থানীয় ফটোসাংবাদিককে গ্রেপ্তার করে।
এআই





