জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- বর্তমান বিরোধী দল সরকারের সফলতার প্রশংসা করছে, আবার সরকারের গঠনমূলক সমালোচনাও করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ সালের সংসদ এবং ২০১৪ সালের সংসদের মধ্যে একটি গুণগত পরিবর্তন আছে। এখন আর জাতিকে খিস্তি-খেউর শুনতে হয় না। বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা জাতিকে মুক্তি দিয়েছেন’।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের সমাপনী দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বিকাল ৫টার পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
শুরুতেই রাষ্ট্রতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে ভাষণ দেন। ভাষণের ওপর প্রধানমন্ত্রী আলোচনার শুরুতেই রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতা এবং শহীদদের স্মরণ করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের শেষ দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় সংসদ নেতা বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। দেশের মানুষ সেই চক্রান্ত সমর্থন করেনি। নির্বাচন হয়েছে। আমরা আবার ক্ষমতায় এসেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের সংসদ এবং ২০১৪ সালের সংসদের মধ্যে একটি গুণগত পরিবর্তন আছে। তখনকার বিরোধীদলের নেতা খালেদা জিয়া সংসদে আসতেন না। সব মিলিয়ে ৮ কী ৯ দিন সংসদে এসেছিলেন। তবে বক্তব্য বেশি দিতেন। তিনি তো পার্লামেন্টেকে পাত্তাই দিতেন না। বরং যেসব অঙ্গভঙ্গি আর খিস্তি-খেউর করতেন! জাতির কাছে আমাদের মাথা হেট হয়ে যেতো। এখন অন্তত খিস্তি-খেউর আর শুনতে হয় না।
সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, আমি ধন্যবাদ জানাই বর্তমান বিরোধীদলের নেত্রী রওশন এরশাদকে। তিনি নিয়মিত সংসদে আসেন। বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। সরকারের সমালোচনা করেন, পরামর্শ দেন। মানুষ ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসদের বক্তব্য শুনতে পারেন। এখন সেই যন্ত্রণার হাত থেকে বর্তমান বিরোধীদল জাতিকে মুক্তি দিয়েছে।
ভাষণের শুরুতেই শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি যখনই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, তখনই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। যারা স্বাধীনতার পক্ষে তারাই বারেবারে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।
জেএ





