রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নোয়াখালীর চরে স্থানান্তর ও পূনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের এ সিদ্ধান্তে নোয়াখালীর সর্বমহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জাতীয় গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর জেলার সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে আলোচনা ও সমালচনার ঝড় উঠেছে। চায়ের দোকান থেকে অফিস আদালত পর্যন্ত চলছে এ ঝড়।
এদিকে, এ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন থেকে প্রতিবাদ, নিন্দা ও সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। এদের মধ্যে হাতিয়ার প্রাক্তন এমপি ফজলুল আজিম, জেলা সদরের প্রাক্তন এমপি ফজলে এলাহী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডার মোজাম্মেল হক মিলন, জেলা সর্বদলীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মিয়া মো. শাহাজাহান, জেলা খেত মজুর ইউনিয়ন সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা সম্মলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন কৈশোর, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির জেলার আহ্বায়ক আনম জাহের উদ্দিন, জেলা বাসদের সদস্য সচিব দলিলুর রহমান দুলালসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ জানিয়েছে।
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভূমিহীনদের পুনর্বাসন না করে উল্টো রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। হাতিয়ায় সেনাবাহিনীকে ভূমি বরাদ্ধ দেওয়ায় ভূমিহীনদের মাঝে এমনিতেই ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। এর মধ্যে এখন রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন একটি হঠকারি ও মনগড়া সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।
তারা বলেন, সন্ত্রাসের স্বর্গরাজ্য কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এ জেলায় স্থানান্তর করা হলে এখানেও সামাজিক এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটবে। শান্তির জেলা নোয়াখালী অশান্ত হয়ে পড়বে। এ জেলায় মাদক, অস্ত্র ও চোরা কারবারীর রাজত্ব কায়েম হবে।
চরাঞ্চলে বিগত বছর গুলোতে বন ও জলদস্যুদের উৎপাতে স্থানীয় অধিবাসিরা এমনিতেই অতিষ্ট। সর্বদলীয়ভাবে দস্যুদের দমন করার পর চরাঞ্চলের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের এখানে পুনর্বাসন করা হলে ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন তারা।
তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার এ সিদ্ধান্ত বাতিল না করলে জেলাবাসী তুমুল আন্দোলন গড়ে তুলবে।
জনমত নির্বিশেষে জেলার সাধারণ বাসিন্দারাও বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নোয়াখালীতে হলে উপকূলীয় চরাঞ্চলে লক্ষাধিক ভূমিহীন পরিবার ব্যপক ক্ষতির মুখোমুখি হবে। বিশেষ করে যারা সরকারি খাস ভূমিতে বসবাস করছেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে এ উপকূলীয় চরাঞ্চলে নিধন হবে বন, হারাবে সম্পত্তি, ধংস হবে মৎস্য সম্পদ, হারিয়ে যাবে শষ্য ভাণ্ডারের নামটিও। বাধাগ্রস্ত হবে অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়নের সকল চাকা।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে পাঁচ হাজার একর খাস জমি বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেয়েছি। তবে ভূমি বরাদ্দ এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
জেআই





