নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি জমি নিজেদের দেখিয়ে বিদ্যালয় স্থাপন ও একই গোষ্ঠির ৪ শিক্ষক নিয়োগের ঘটনা ফাঁস হওয়ায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি অধিগ্রহণকৃত জমির তথ্য গোপন রেখে নিজের মালিকানা দেখিয়ে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত মাস্টারপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে পৌরসভাস্থ রহমানপুর মৌজার জেএল নং ১১ খতিয়ান নং ২৫১৯ মোতাবেক ৭৫৯৬ দাগে ১২ শতাংশ জমি গত ০৫ সেপ্টেম্বর ১২ সালে পৌর ভূমি অফিসে খারিজ মূলে দলিল করে দেয় বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব আলাউদ্দিন।
অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়টি সরকারি করণে যে ধরণের বিধিমালার বাস্তবায়ণ করার কথা ছিল তা’না করে ভুয়া ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি ও সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা লেনদেন করে দ্রুত বিদ্যালয়টি সরকারি করে নেয়া হয়।
অপরদিকে এসএ খতিয়ান মূলে ওই ৭৫৯৬ দাগে জমির মালিকানা ও খারিজ দাবী করে দূর্নীতি দমন কমিশন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন ওমর উদ্দিনের শরিক মো. মোস্তফা।
অভিযোগ তদন্তপূর্বক বিদ্যালয়ের নামীয় জমি সরকারি মালিকানা হওয়ায় বিদ্যালয়ের নামে ১২৫/১২-১৩ নং খারিজটি বাতিল ঘোষণা করে জমি মূল মালিকানায় ফেরত নেয়ার আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর কুতুবুল আলম।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব আলাউদ্দিন সরকারি জমির মালিকানা গোপন রেখে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাত করেন এবং সরকারি সকল বিধি-বিধান না মেনে তারই গোষ্ঠির ৪ শিক্ষককে নিয়োগ দেন। অবস্থা বেগতিক দেখে তার ছেলে কামরুজ্জামান রিন্টুকে সভাপতি করে বিদ্যালয়ের সভাপতিত্ব ছেড়ে দেন।
সরেজমিনে একাধিকবার সকাল সোয়া ১০ টায় বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় ওঠে না জাতীয় পতাকা খোলেনা বিদ্যালয়।
একদিন সাড়ে ১২ টায় গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অফিস কক্ষে সাজ সজ্জায় ব্যস্ত। শ্রেণি পাঠের সময় হলেও ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী মাঠে খেলছেন। পুরো বিদ্যালয়ে আর কোনো শিক্ষক নাই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজনীন নাহার জানান, ‘আমরা সময়মত বিদ্যালয় খুলি, ক্লাস নেই। শিক্ষক আছেন, পাশের বাড়ীতে গেছেন। স্কুল সরকারি জমিতে কী না জানি না। আগের সভাপতি বলতে পারবেন।’
বর্তমান সভাপতি কামরুজ্জামান রিন্টু বলেন, ‘ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা জমির খারিজ দিয়েছেন আরেকজন কর্মকর্তা খারিজ বাতিল করেছেন ওনারাই ভালো বলতে পারবেন, আপনার কি সমস্যা ? সমস্যা হলে আমার সাথে দেখা করেন।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার ওই বিদ্যালয়টি এখনও দেখা হয়নি। আমার সহাকারিদের তথ্য সংগ্রহের জন্য বলছি এ ব্যাপারে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর কুতুবুল আলম এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যালয়টি ঠিক জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ঠিক থাকলে তো খারিজ বাতিল হত না। গভীর তদন্ত করে দেখা গেছে বিদ্যালয়ের জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত। তাই খারিজটি বাতিল করে জমি মূল হোল্ডিংয়ে ফেরতের আদেশ দেয়া হয়েছে।
দোহা/জেড





