জিসান হাবিব বাসের ভেতরে বসে মুঠোফোনের খেলায় মত্ত ছিলেন। এমন সময় তার মুঠোফোনটি এক ছিনতাইকারী ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেয়। পরে বাস থেকে নেমে জিসান ওই ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন। কিন্তু পেছন থেকে আরো দুই ছিনতাকারী তাঁকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উত্তরা পূর্ব থানায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সুন্দরী সুমন, স্বপন, মো. বিপ্লব, তৈয়ব আলী, জাহাঙ্গীর ব্যাপারী, তানভীর রহমান নেহাল, মো. জিহাদ, নূরুল ইসলাম রাব্বি ও মো. রাকিব।

পুলিশ জানায়, জিসান নোয়াখালী সোনাইমুড়ী খলিলুর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। গত ২৮ নভেম্বর জিসান নোয়াখালী থেকে ধামরাইয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে জিসান এক আত্মীয়কে বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে যান। সেখান থেকে রুহুল আমিন নামের এক আত্মীয়ের সঙ্গে ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসে করে নবীনগর ফিরছিল।

বাসটি বিমানবন্দর থেকে আবদুল্লাহপুর এলে জানালা দিয়ে এক ছিনতাইকারী জিসানের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় জিসান ফোনে খেলা করছিলেন। পরে দ্রুত বাস থেকে নেমে দৌড়ে ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলেন জিসান। এ সময় রুহুলও বাস থেকে নেমে সেখানে যান। এরপর তারা দুজন ছিনতাইকারীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করতে গেলে পেছন থেকে অপর দুজন ছিনতাইকারী এসে জিসান ও রুহুলকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। তাঁদের আহত অবস্থায় ফেলে রেখে ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। পরে আহত জিসান ও রুহুলকে চিকিৎসার জন্য শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসক জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা করে জিসানের পরিবার।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. শহিদুল্লাহ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত ১২ ডিসেম্বর উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা থেকে সুন্দরী সুমন ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেফাজত থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।

দুজনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, নরসিংদীর রায়পুরা থানার বাঘাইকান্দি চর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. বিপ্লব ও তৈয়ব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর অব্যাহত অভিযানে উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা থেকে অন্য আসামি গ্রেপ্তার করা হয়।

এই চক্রের আরো দুজন কবির ও নাতি সোহাগ পলাতক আছে। এরা আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা এলাকায় ছিনতাই করে। দলের একটি গ্রুপ বিভিন্ন স্থানে পাহারা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য আশপাশে আসছে কি না সেটা তদারকি করার জন্য। ছিনতাইয়ের সময় গ্রুপের কেউ ধরা পড়লে গ্রুপের অন্য সদস্যরা মুরুব্বি সেজে ঘটনাস্থলে নানা কৌশলে আটক ছিনতাইকারীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এদের সব সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় চুরি, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এমআর