মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের রায় ঘিরে সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে সরকারি অফিস ও ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মঙ্গলবার থেকেই নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীর ফাঁসির রায়কে ঘিরে সহিংস আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিল জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। সে সহিংস তাণ্ডবের বিষয় মাথায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বুধবার সাঈদীর আপিলের রায় ঘোষণা করবে। আপিল বিভাগে দিনের কার্যতালিকার ১ নম্বরে রয়েছে এই রায়ের বিষয়টি।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মুখপাত্র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ টাইমনিউজবিডিকে বলেন, সাঈদীর আপিলের রায়কে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে দেয়া হবে না। সে জন্য র‌্যাবের প্রত্যেকটি ব্যাটালিয়নকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় র‌্যাব সর্বাত্মক সতর্কাবস্থায় থাকবে জানান তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি)গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় কেউ বাধা দিলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।” পুলিশের সব ইউনিটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজিবি চেয়েছে চট্টগ্রামের পুলিশ
সাঈদীর চূড়ান্ত রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নাশকতা রোধে চট্টগ্রামেও নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (সদর) মাসুদ উল হাসান জানান, নগরীর ১৬ থানার নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ এবং এবিপিএন মোতায়েন থাকবে।

এছাড়া ছয় প্লাটুন বিজিবি সদস্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপ-কমিশনার মাসুদ বলেন, “বুধবার ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশিচৌকি বসবে।”

গতবছর ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পর লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে জামায়াতের সহিংসতায় পুলিশসহ সাতজন নিহত হন। আপিলের রায় ঘিরে এসব এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের সহাকারী পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) একেএম এমরান ভূঁইয়া জানান, এসব এলাকায় নিয়মিত টহলের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ এবং বিজিবি মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। “সহিংসতাপ্রবণ এলাকাগুলোয় মঙ্গলবার রাত থেকে অভিযান ও তল্লাশি চালানো হবে।”

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (গোয়েন্দা) নাইমুল হাসান জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবেলায় জেলার প্রতিটি থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা, জেইউ, ১৬ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই