চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত যুবদল কর্মী আজাদ আলী খান হত্যা মামলায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরসহ যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক রেজা তারিক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান বিষয়টি নিশ্চিত করে  বলেন, ‘দীর্ঘদিন উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় মামলাটির বিচারকাজ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়ার পর ফের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের দেয়া রায়ে ১১ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। ১১ আসামির মধ্যে রায় ঘোষণার সময় আদালতে বাবরসহ  ৪ জন আসামি হাজির ছিলেন।’

বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি বলে আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়।

এ মামলায় আপিল করা হবে কিনা- এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি আইয়ুব খান বলেন, ‘তা রায় পর্যালোচনা করে জানানো হবে।’

খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, সুনীল দে, মফিজুর রহমান দুলু, সুরজিত বড়ুয়া, উৎপল কুমার চৌধুরী, ইফতেখার, জাফর উল্লাহ, শাহনেওয়াজ, হুমায়ন কবির ও হাফিজুর রহমান।

আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিল যুবদলের একটি মিছিলে প্রকাশ্যে গুলি করে ওই সংগঠনের কর্মী আজাদ আলী খানকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সেলিম খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তৎকালীন যুবলীগ-ছাত্রলীগের মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ছিলেন। গত বছরের ২৪ জুন চট্টগ্রামে রেলওয়ের টেন্ডারবাজি নিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের গোলাগুলিতে শিশুসহ দুজন নিহতের জেরে বাবরকে বহিষ্কার করা হয়।

মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর আজাদের পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করলেও আদালত প্রাঙ্গনেই যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করে।

জেআই