র্যাবের অভিযানে নগরীর হালিশহরের গোল্ডেন কমপ্লেক্স আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৭৬টি হ্যান্ড গ্রেনেড সদৃশ তাজা বোমা ও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম, গোলাবারুদসহ তিন ‘জঙ্গি’সহ চারজনকে আটক করেছে র্যাব। এদের মধ্যে এক নারীও আছেন।
আটককৃতরা হলেন কক্সবাজারের পেকুয়া থানার ফয়জুল হক (৩০), তার বোন রহিমা আক্তার (২১) এবং বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের আব্দুল হাই (৩৬)।
শুক্রবার রাতভর গোল্ডেন কমপ্লেক্স আবাসিক এলাকার বি এ ম্যানশন (বাড়ি নম্বর-১/১৯) নামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এসময় ওই ফ্ল্যাটে মজুদ রাখা বিস্ফোরকগুলো জব্দ করে র্যাব। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বিস্ফোরক, বোমা, অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ আটককৃতদের জঙ্গি সংগঠনের সদস্য বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাকসুদুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান ২২ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের ধারাবাহিকতায় হালিশহর এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়।
এ সময় র্যাব ১৫০ কেজি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক, ৭৬টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বোমা, ২৪টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
এদিকে জঙ্গি আটক ও গ্রেনেড উদ্ধারের স্থান এবং ঘটনা সর্ম্পকে জানার জন্য র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহম্মদ হেলিকপ্টার যোগে শনিবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে র্যাব কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন ‘বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানানোর পরিকল্পনা করেছিল গ্রেফতারকৃত জঙ্গিরা।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে যে গণহত্যা, পেট্রোল বোমার সন্ত্রাস চলছে তা অন্যান্য সন্ত্রাসকে উসকে দিচ্ছে। এটা ধর্মীয় জঙ্গিবাদিদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। এই সন্ত্রাস জঙ্গিবাদি কর্মকান্ডে উৎসাহ জোগাচ্ছে।
তারা দেশটাকে জঙ্গিবাদি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চান। সমুলে জঙ্গি উৎপাটন সম্ভব দাবী করে তিনি বলেন খুব সহসাই জঙ্গিদের সকল নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে আইনের আওতায় আনা হবে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম শুক্রবার রাতে নগরীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ককটেল, পেট্রোল বোমা ও উদ্ধার করেছে পুলিশ ।
নগরীর বন্দর থানাধীন গোসাইলডাঙ্গা এলাকা থেকে পুলিশ ১৭টি পেট্রোল বোমা, ১৬টি ককটেল, ২কেজি গানপাউডার, ১কেজি কাঁচের গুড়া, ৪কেজি স্প্রিন্টার ও ২টি কিরিচ উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে র্যাবের অভিযানে হালিশহর এলাকা থেকে ৩০টি গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে।
বন্দর থানার গোসাইলডাঙ্গা এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রোলবোমা, ককটেলসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাত ৮টার দিকে গোসাইলডাঙ্গা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত গ্যারেজ থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১৭টি পেট্রোলবোমা ও ১৬টি ককটেল, ২ কেজি গান পাউডার, এক কেজি কাঁচের গুঁড়া, ৪ কেজি স্প্রিন্টার ও ২টি কিরিচ।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, কিছুদিন আগে বন্দর এলাকায় ককটেল ছোঁড়ার সময় এক যুবককে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশকে জানান, ইমরান নামে এক যুবক তাকে টাকা দিয়েছেন ককটেল ছোঁড়ার জন্য।
এরপর অভিযান চালিয়ে গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লা থেকে ইমরানকে (১৮) আটক করে চট্টগ্রাম আনা হয়।
পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গোসাইলডাঙ্গা এলাকা থেকে বিষ্ফোরক দ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়। ইমরান বন্দর থানার হাজি আব্দুল কাশেমের বাড়ি এলাকার ইদ্রিসের ছেলে।
কেএইচ/এসএইচ





