মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আসার পথে টেকনাফের নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবিতে আরও ১৯ রোহিঙ্গার মরদেহ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে শাহপরীর দ্বীপ এলাকার মাজারপাড়া তীরে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সাবরাং ইউপি সদস্য নূরুল আমিন সমকালকে জানান, গতরাতে ও ভোরে রোহিঙ্গা বোঝাই তিনটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে তীরে ১৯টি মৃতদেহ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে নারী-শিশু রয়েছে। তিনি আরও জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় মৃতদেহ বাড়তে পারে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, নৌকাডুবির ঘটনায় কয়েকটি মরদেহ তীরে পাওয়া গেছে বলে তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মাইন উদ্দিন খান জানান, তীরে ১৯টি লাশ পড়ে রয়েছে বলে স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বুধবার ভোরে সাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় দুই নারী ও শিশুসহ চার জনের মরদেহ পাওয়া যায়।মঙ্গলবার গভীর রাতে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা বোঝাই একটি নৌকা নাফ নদীতে ডুবে যায়। এমন ঘটনার পর স্থানীয়রা নৌকাটি খোঁজাখুজি করে। বুধবার সকাল ৭ টার দিকে স্থানীয়রা শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া নাফ নদীতে লাশ ভাসতে দেখে। পরে পুলিশ ও বিজিবি এসে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বিচারে রোহিঙ্গা হত্যা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয় বলে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠে। সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে গত অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। গত কয়েক দশকে ৫ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে দাবি সরকারের। তাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ। তবে এখনো প্রত্যাশিত সাড়া দেয়নি মিয়ানমার।
এএইচ





