পাগলিটা মা হয়েছে তবে সিনথিয়ার বাবা হইনি কেউ! ফুটফুটে নিষ্পাপ কন্যাশিশুটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাদছে মায়ের কোলে। শিশুটি জন্ম নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে।
শনিবার (১৬ মে) রাত ১১টা ২০ মিনিটে মানসিক ভারসাম্যহীন নারী চায়না আক্তার নামে এক পাগলির গর্ভে জন্ম। তবে তিনি ঠিকানা বলতে পারছেন না।
এটা নির্মম জীবন বাস্তবতায় এক ফুটফুটে মানবশিশুর পৃথিবীতে আসার গল্প, রাতের আঁধারে সন্তানসম্ভবা এক পাগলি মায়ের প্রসববেদনায় চিৎকারে ভারি করে তুলছিল নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজার সংলগ্ন নড়িয়া-শরীয়তপুর সদর সড়ক।
এমন একটি রাতে নির্জন জায়গা থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে শব্দকে গন্তব্য করে ছুটে গিয়েছিলেন কিছু মহৎ মানুষ। তবে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তী রূপা রায় জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজার সংলগ্ন নড়িয়া-শরীয়তপুর সদর সড়কে মানসিক ভারসাম্যহীন এক প্রসূতি নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে মুঠোফোনে স্থানীয়রা তাকে জানান। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অসুস্থ ওই নারীকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাতৃসদন নামে (ভোজেশ্বর) একটি ক্লিনিকে ভর্তি করান। কিন্তু সেখানে ওই নারীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, ওই নারী শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সদর হাসপাতালে ফুটফুটে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। ওই নারী ও তার মেয়ে সুস্থ আছেন। আমরা তাদের সব সময় খোঁজখবর রাখছি। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহমেদ খান বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ও তার মেয়ে সদর হাসপাতালে আমাদের তত্ত্বাবধানে আছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দুজনই সুস্থ আছেন। ওই নারী তার মেয়ের নাম রেখেছেন সিনথিয়া।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার তাপস বিশ্বাস বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর ওষুধ, পরীক্ষাসহ যাবতীয় খরচ আমরা বহন করবো। গাজীপুরের কাশিমপুর সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রের পরিচালকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলে মা ও মেয়েকে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তার পরিচয় বলতে পারছেন না।
এএস





