নড়াইলে অর্ধশত অবৈধ ইটভাটা কারনে বিপন্ন হতে চলেছে জেলার পরিবেশ। এইসব ইটভাটাতে কোন নিয়ম নীতি অনুসরণ না করেই বছরে পুড়ছে ৪০ লাখ মণ কাঠ। জনবসতির কাছাকাছি ও ফসলি জমিতে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটা পরিবেশে বিপর্ষয়ের প্রধান কারন বলে মনে করেন জেলাবাসী।
ইটভাটার মালিক-কর্মচারী ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নড়াইলের তিন উপজেলায় মোট ৮৩টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে অনুমোদন আছে মাত্র ৩৫টির। অনুমোদনহীন ৪৮টি ইটভাটা ড্রাম চিমনি ও ব্যারেল চিমনির। এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো হয়।
ইটভাটার মালিকদের হিসাব অনুযায়ী, সাধারণত ছোট ইটভাটায় এক মৌসুমে (নভেম্বর থেকে এপ্রিল) ২৫ থেকে ৩০ লাখ ইট পোড়ানো হয়। আর বড় ভাটায় পোড়ানো হয় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ ইট। ১ লাখ ইট পোড়াতে ২ হাজার মণ কাঠের প্রয়োজন। সে হিসাবে নড়াইলের অনুমোদনহীন ৪৮টি ইটভাটায় এক মৌসুমে প্রায় ৪০ লাখ মণ কাঠ পুড়ছে।
তাই ভাটাগুলো জ্বালানী সংগ্রহ করতে নির্বিচারে কাটছে গাছপালা, যা পরিবেশের জন্য হুমকি। একজন ভাটামালিক বলেন, কাঠের তুলনায় কয়লার খরচ কম। তারপরও ভাটামালিকেরা কাঠ পোড়ান। কারণ, কাঠ সহজেই পাওয়া যায়। আবার অল্প পুঁজিতে মাঝে মাঝে কেনা যায়। কিন্তু একবারে অনেক টাকার কয়লা আনতে হয়।
সরেজমিনে ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, এসব ভাটায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে কাঠ। আবার বেশির ভাগ ইটভাটা জনবসতিপূর্ণ এলাকায়, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অবস্থিত।ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুসারে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ। আর আবাসিক এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ও কৃষিজমিতে ভাটা তৈরি নিষিদ্ধ।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানাযায়, জেলায় ৯৫ শতাংশ ভাটা গড়ে তোলা হয়েছে ফসলি জমিতে। এতে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে।এ ছাড়া ইট তৈরি করতে এলাকার আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে দস্তা, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, নাইট্রোজেনসহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান ধ্বংস হচ্ছে। জমির উপরিভাগের ছয়-সাত ইঞ্চি মাটিতে এসব উপাদান বেশি থাকে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ইটভাটার অনুমোদন (লাইসেন্স) পেতে প্রথমে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এ অনুমোদনের পূর্বশর্ত হলো, ভাটায় আধুনিক প্রযুক্তির চিমনি (জিগজ্যাগ) করা, যা অনুমোদনহীন ৪৮টি ভাটার বেলায় নিয়ম নীতির কোন বালাই নেই।
উজ্জল/নাজিব





