নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের কাজহরদি দেলপাড়া গ্রামে সাদা পোশাকে সোনারগাঁ থানার এএসআই ইমাম আহাদ কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বাবুলকে ৮ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করে ফেরার পথে বাবুলকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে গনধোলাই দিয়ে দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্দ এলাকাবাসিরা। এসময় এএসআইয়ে ব্যবহৃত অস্ত্র লুট করা হয়।
শনিবার (০১ জুলাই) দুপুর এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর খোয়া যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ ১০জন আহত হয়েছে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার(খ-অঞ্চল) সাজিদুর রহমান, সোনারগাঁ থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় বিকেলে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,দুপুরে সোনারগাঁ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইমাম আহাদ ও কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স রনি মিয়া সাদা পোশাকে সাদিপুর ইউনিয়নের কাজহরদি দেলপাড়া গ্রামে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল মিয়ার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ৮কেজি গাঁজাসহ বাবুলকে গ্রেফতার করে। এসময় বাবুলকে ছাড়িয়ে নিতে তার পরিবারের লোকজন সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালায়।
খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ৯নং ওয়াডের্র সদস্য (ইউপি মেম্বার) আশরাফ আলী ও স্থানীয় সামাদ মিয়াসহ আরো কজন ঘটনাস্থলে গেলে তারাও ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়ে রক্তাক্ত আহত হয়। এতে করে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এসময় এলাকাবাসী এএসআই ইমাম আহাদ, কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম ও সোর্স রনি মিয়াকে গণধোলাই দিয়ে একটি ঘরে দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রেখে এএসআই এর সঙ্গে থাকা অস্ত্র লুটে নেয়। এছাড়াও স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফ আলী, সামাদ মিয়া, রাসেল, বাতেন, কবিরসহ ১০জন আহত হয়।
আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে দুপুর দেড়টার দিকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা ও সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান মাসুমের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদুর রহমান, ওসি মঞ্জুর কাদের ও নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে ও খোয়া যাওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করে।
ঘটনার পর বিষয়টি জানতে পেরে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী মাদক ব্যবসায়ী বাবুল মিয়ার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ী বাবুলকে গাঁজাসহ গ্রেফতারের পর থানায় নিয়ে আসার সময় বাবুলের পরিবার ও তার লোকজন তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকার নিরীহ সামাদ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আশরাফ আলী তাতে বাঁধা দেয়। এসময় এএসআই ইমাম আহাদ ইউপি সদস্য ও সামাদ মিয়াকে মারধর করে। এসময় ইউপি সদস্যের মাথা ফেটে যায়। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আশরাফ আলীর সমর্থকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সদস্যদের গণধোলাই দিয়ে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইমাম আহাদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ী বাবুলকে গ্রেফতার করে ফেরার পথে তার ছেলে মেয়ে ও তার লোকজন আমাকে ও কনস্টেবলকে মারধর করে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এসময় বাবুলের লোকজনের ইটপাটকেল ছুড়তে থাকলে ইউপি সদস্য আশরাফ আলী পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে আহত হয়। তার রক্ত দেখে আমি তাকে মারধর করেছি বুঝে উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফ আলী বলেন, আব্দুর সামাদ নামে ষাটোর্ধ্ব একজন মরুব্বীর সঙ্গে পুলিশের বাকবিতন্ডা দেখে আমি বাধা দেই। এসময় পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পাই। যার জন্য এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তখন জানতাম না যে মাদক বিক্রেতা বাবুলকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিল পুলিশ। জানলে এসব কিছুই হতো না।’
সোনারগাঁ থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, সাদা পোশাকে মাদক ব্যবসায়ী ধরতে গিয়ে এক এএসআই ও কনস্টেবলকে আহত করে মাদক ব্যবসায়ীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খোয়া যাওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মোল্লা ও সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান মাসুম বলেন, সাদা পোশাকে পুলিশকে চিনতে না পেরে এলাকাবাসীরা পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুট করে নেয়। পরে আমাদের সহযোগিতায় ও পুলিশের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপে লুট হওয়া অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বলেন, পুলিশের মামলায় নীরিহ লোকদের হয়রানী করা না হয় সে জন্য পুলিশের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এমই/ইকবাল





