মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, কোন শিশু রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে না এবং না খেয়ে মরবে না, এটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে এখনও ৩৫ লাখ শিশু বিভিন্ন ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদেরকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।
‘কন্যাশিশুর নিরাপদ পরিবেশ, সমৃদ্ধ করবে আগামীর বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ও জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম-এর যৌথ উদ্যোগে উদ্যাপিত হয় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০১৫। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেহের আফরোজ চুমকি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘কন্যাশিশুদের মৌলিক অধিকারসমূহ যথা; শিক্ষা, পুষ্টি, খাদ্য ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে, কোনভাবেই তাদের মৌলিক অধিকারসমূহ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’তিনি ‘শিশুর প্রতি সকল প্রকারের সহিংসতা বন্ধ করার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে সবকিছু মোকাবেলা করার আহ্বান জানান।।’
দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে আজ সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ৮:৩০টায় শাহবাগ জাতীয় যাদুঘরের সামনে থেকে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী পর্যন্ত এক র্যালি এবং র্যালি শেষে সকাল ১০:০০টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘কন্যাশিশু দিবস আমরা ২০০০ সাল থেকে উদযাপন করছি। আজ ১৬ বছরে পা দিয়েছে এ দিবস। সাধারণত শিশু অধিকার সপ্তাহ শুরু হয় ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে। আমরা কন্যাশিশুর অধিকারকে মানবাধিকারে পরিণত করতে পেরেছি। পরবর্তীতে জাতিসংঘ ২০১২ সালের ১১ অক্টোবরকে কন্যাশিশু দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ জন্য আমরা গর্বিত।’
জনাব শাহিনা আক্তার ডলি বলেন, ‘আজ এ অনুষ্ঠানে ৫৪টি সংগঠনের কন্যাশিশুরা অংশগ্রহণ করেছে যা অত্যন্ত ইতবাচক। তিনি, কন্যাশিশুর নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এম.এ. মুহিত বলেন, ‘সবাই নিজ নিজ প্রতিভা নিয়ে জন্মায়, যার যার স্বপ্ন তার তার এভারেস্ট। তিনি কন্যাশিশুদের নিজ নিজ স্বপ্ন পূরনে সবোর্চ্চ চেষ্টা করতে বলেন। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের ওপর জোর করে কোন কিছু চাপিয়ে না দেবার প্রতিও আহ্বান জানান। কেননা জোর করে চাপিয়ে দিলে প্রতিভা নষ্ট হয়ে যায়।’
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জনাব ড. বদিউল আলম মজুমদার- সভাপতি, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম ও জনাব শাহিনা আক্তার ডলি- সহসভাপতি জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম। এছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব এম.এ. মুহিত- বাংলাদেশী প্রথম এভারেস্ট জয়ী । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব মোশাররফ হোসেন- পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী। আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব নাছিমা আক্তার জলি- সম্পাদক, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম।
অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত কন্যাশিশু-১১ জার্নাল এবং পোস্টার-এর মোড়ক উন্মোচনও করা হয়। দ্বিতীয় পর্বে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। জনাব ফরিদা পারভীন- বিশিষ্ট লালন সঙ্গীতশিল্পী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ।
ইআর





