এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয়করণের দাবিতে আমরণ অনশনে থাকা শিক্ষকদের দাবি পূরণে আশ্বস্ত করেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী। তবে দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন বলে শিক্ষকরা জানান। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে অামরণ অনশনকারী শিক্ষকরা এ তথ্য জানান।
শিক্ষকরা জানান, বুধবার দুপুরে লিয়াঁজো ফোরামের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলীর সাথে আলোচনায় বসেন। এ সময় তিনি শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেছেন এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করবেন এবং অালোচনার ফলাফল নেতৃবৃন্দকে জানাবেন বলে জানান।
শিক্ষক-কর্মচারীদের ৬টি সংগঠনের জোট ‘বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরাম’ গত ২৩ থেকে প্রেসক্লাবের সামনে আমরণ অনশন পালন করছেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় গত মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালন করছেন তারা। অামরণ অনশনে গতকাল বুধবার ৯ জন শিক্ষক অসুস্থ্য হয়েছেনে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১২৪ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন বলে শিক্ষকরা জানান।
লিয়াঁজো ফোরামের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক জানান, মাধ্যমিক থেকে শুরু করে সব এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। তবে সরকার চাইলে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করতে পারেন।
লিয়াঁজো ফোরামের প্রেসসচিব এনামুল ইসলাম মাসুদ জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারি শিক্ষকরা যে সকল বৈষম্যের শিকার, তা দূর করা এবং শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার একমাত্র সমাধান শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ। বিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি না করে একসাথে সব এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জোর দাবি জানান তিনি।
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য দূরীকরণে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। সারাদেশের প্রায় ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তারা সেসব প্রতিষ্ঠান চালালেও নামমাত্র বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তা দিয়েই মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। অথচ ৩ শতাংশ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উচ্চমানের বেতন-ভাতা পাচ্ছেন তাই জাতীয়করণ ছাড়া তারা ঘরে ফিরে যাবেন না বলে জানান।
এর আগে গত ১০ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় শিক্ষক-কর্মচারীদের ৬টি সংগঠনের জোটের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও ১৫ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন পালন করে যাচ্ছেন।





