টাঙ্গাইল বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাচ্ছে না দুর পাল্লার কোন বাস। টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা, গাজিপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুরসহ সব জেলার সাথে বাস যোগাযোগ বন্ধ করেছে টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ, মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন। এত চরম ভোগান্তিতে পরেন সাধঅরন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে তারা এ ধর্মধটের ডাক দেয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।
শ্রমিকদের উপর করা সরকারের নতুন আইন শিথিল না করা হলে তাদের এ ধর্মঘট অব্যহত থাকবে বলে জানিয়েছেন একাধিক শ্রমিক নেতা। এদিকে শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারনে ঘর ছেড়ে আসে সাধারণ যাত্রীরা সময়মত যেতে পারছে না তাদের গন্তব্যে। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকলেও মিলছেনা কোন গাড়িই।
অপরদিকে পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, তাদের উপর সরকারের নতুন আইন করাতে তারা আজ দিশেহারা। প্রয়োজনে তারা পরিবহন ছেড়ে অন্য পথে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করবেন বলেও জানান এসব বাস চালকরা।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,একাধিক বাস চালক সেখানে বসে আড্ডা দিচ্ছে। বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় একাধিক বাসের জটলা। টাঙ্গাইল ছেড়ে যাচ্ছে না দুর পাল্লার কোন পরিবহন। কাউন্টারে-কাউন্টারে যাত্রিদের ভীড়। কিন্তু ছাড়ছে না কোন গাড়ি।
টাঙ্গাইল থেকে ঢাকা যাবার উদ্দেশ্যে নিরালা কাউন্টারে বসে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন রাকিব। তবে গাড়ি না পাওয়ায় তার ভার্সিটির ক্লাস করতে পারলো না সে। সাজ্জাত নামের আরেক জনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার আত্মীয় হাসপাতালে ভর্তি। সময় মতো না যেতে পারলে তার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।
কথা হয় পারভিন আক্তার নামে এক যাত্রীর সাথে তিনি বলেন, আমি ২ ঘন্টা যাবত গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু কোন গাড়ি ছাড়ছে না। সঙ্গে তার ৭ বছরের একটা ছেলেকে নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।
বাস ড্রাইভার খোকন বলেন, আমরা যদি কোন দূর্ঘটনা করে থাকি তবে তার জন্য যে লক্ষ-লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে তা আমরা কই পামু। যদি আমাদের টাকা থাকতো তবে আমরা কি এই গাড়ি চালাতাম?
রাজ্জাক নামের আরেক ড্রাইভার বলেন, আমরা যে দূর্ঘটনার স্বীকার হই, সেটা কি শুধু আমাদের কারনেই হয়। এটা তো অন্য কোন কারনেও হতে পারে। তাহলে আমরা কেন তার প্রতিদান একা দিব।
এছাড়া আলম,ফরহাদসহ একাধিক বাস চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা প্রয়োজনে তাদের এই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য কোন পেশার সাথে সম্পৃক্ত হবেন। তবুও তারা এ কাজ করতে রাজী নন।
এবিষয়ে টাঙ্গাইল বাস-কোচ, মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মীর লুৎফর রহমান লালজু জানান, সরকার পরিবহন শ্রমিকদের উপর যে নতুন আইন করেছে তাতে আমাদের পক্ষে গাড়ি চলানো সম্ভব না। আমরা এতো টাকা কোথায় পাবো। আমরা কাউকে গাড়ি চালাতে নিষেধ করিনি। যার ইচ্ছা সে গাড়ি চালাবে, যার ইচ্ছা সে চালাবে না।
এমই/কাওছার





