জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসকে চিরতরে এদেশ থেকে বিতারিত করতে বড় ধরণের এ্যাকশনধর্মী কর্মসূচি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার বিকেলে রাজধানীর আসাদগেটে ১৪ দলের মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা তলে তলে বড় ধরণের আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই শুধু মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি দিয়ে তাদের প্রতিহত করা সম্ভব হবে না। তাদেরকে চিরতরে এই দেশ থেকে বিতাড়িত ও নির্মূল করতে হলে এ্যাকশনধর্মী কর্মসূচি নেওয়া উচিত।”

এ্যাকশনধর্মী কর্মসূচি কি ধরণের হতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘‘এ্যাকশনধর্মী কর্মসূচি দ্বারা অস্ত্র বুঝাচ্ছি না। এটা হতে পারে ৫০ থেকে এক লক্ষ লোকের একসঙ্গে মিলিত হয়ে বড় ধরণের বিক্ষোভ মিছিল।’’

“আমি বোঝাতে চাচ্ছি খণ্ড খণ্ড কর্মসূচি না দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল সকল শক্তিকে একই প্লাটফর্মে এসে জঙ্গি ও গুপ্তহত্যাকারী ও তাদের দোসরকের প্রতিহত করা। কারণ রাজনীতিতে প্রকাশ্য শত্রুর চেয়ে এই গোপনীয় শত্রুরা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।”

সরকার সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যার কারণে ভীত কিনা এমন প্রশ্নের জাববে ক্ষমতাসীন দলের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, যে জাতি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাক হানাদারদের পরাজিতত করে লক্ষ জীবনের বিনিময়ে একটি দেশ স্বাধীন করেছে, ক্রিকেটের মাধ্যমে বিশ্বে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেছে তারা কখনো ভীত হতে পারে না।”

আপনারা কি কখনো প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে, কথা-বার্তায় কোনো দুর্বলতা পেয়েছেন? আমরা ভীত হওয়া জাতি নই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমরা সকল শান্তিপ্রিয় মানুষ আছি। জঙ্গি, গুপ্তহত্যাকারী, এদের পেছনে যারা আছে, অর্থ যোগান দিচ্ছে তারা সকলেই পরাজিত হতে বাধ্য।”

একই পয়েন্টে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, “এই কর্মসূচিতে দেশবাসি স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নিয়ে জানান দিচ্ছে জাতি হিসেবে আমরা সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। আর ১৪ দল আমরা রাজনৈতিকভাব জানান দিচ্ছি, আমরা এই গুপ্তহত্যা, জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এর মাধ্যমে সকল অশুভ শক্তি সতর্ক হবে।”

জঙ্গিবাদ ও গুপ্তহত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।

রোববার বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে এই কর্মসূচির পালিত হয়েছে। রাজধানীর গাবতলী থেকে যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত ১৯টি পয়েন্টে রাস্তার পাশে দাঁড়ায় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা। তবে আসদ গেট পয়েন্টে ক্ষমতাসীন জোটের অন্যান্য নেতাদের দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, সাবেক সাংসদ ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী খালেদা তারেক তৃপ্তি, মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান প্রমুখ।

ইআর/এমআইএস