বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের এখনও নিম্ন পরিবেশে কাজ করতে হচ্ছে এবং অধিকার আদায়ে শ্রমিক ইউনিয়ন করার সুযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এইচ আর ডব্লিউ।

আজ (বুধবার)সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই অভিযোগ করা হয়।

এতে বলা হয় গার্মেন্টস মালিকরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে শ্রমিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে চলছে যাতে তারা কোন ধরনের ইউনিয়ন করার সুযোগ না পায়। এমনকী শ্রমিক অধিকার আদায়ে যারাই কোন ইউনিয়ন গঠণ করছেন তাদের ওপরই মালিকরা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে থাকে।

ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৪শে এপ্রিল ঢাকার অদূরে সাভারে রানাপ্লাজায় ভয়াবহ ধ্বসে ১১’শর অধীক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর গার্মেন্টস শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এর অগ্রগতি খুবই মন্থর।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিকদের কাজের পরিবেশকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বাংলাদেশ সরকার ও পশ্চিমা বায়াররা আন্তরিকভাবে চাইলে অনেক কিছুই করতে পারেন এবং সেটা তাদের করাও উচিত।  বিশেষ করে কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অধিকার রক্ষায় ইউনিয়ন করার অধিকার সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সোচ্চার হতে হবে।

  

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি ডিরেক্টর ফিল রবার্টসন বলেন, বাংলাদেশ যদি আবারও রানা প্লাজার মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে চায় তাহলে উচিত গার্মেন্টস শ্রমিকদের ক্ষেত্রে শ্রমিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং শ্রমিকদের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, যদি কোন কারখানার ম্যানেজার শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার অধিকার দিতে না চায় এবং তাদের ওপর আক্রমন চালায় সেক্ষেত্রে সরকারকে লাখ লাখ শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

এইচ আর ডব্লিউর ৭৮ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি তৈরিতে ৪৪টি গার্মেন্টস কারখানার ১৬০জন শ্রমিকের সাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়েছে। এসব শ্রমিকদের বেশিরভাগ বড় বড় কারখানায় কাজ করেন যার বায়ার উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ায়।  

শ্রমিকরা সাক্ষাতকার প্রদানকালে অভিযোগ করেন যে, কর্মস্থলে তাদেরকে শারিরীক ও মৌখিকভাবে নির্যাতন করা হয়। জোর করে ওভার টাইম করানো, মাতৃত্বকালীন ছুটি না দেয়া এবং সময়মতো বেতন ও বোনাস পরিশোধ না করাসহ  তাদেরকে যৌন নির্যাতনের শিকার পর্যন্ত হতে হয়।

এমনকী শ্রমিক আইনের সংস্কারের পর অনেকে ইউনিয়ন করার চেষ্টা করলে তাদেরকে হুমকি প্রদান, কর্মস্থল থেকে বহিস্কার এবং কখনও কখনও কারখানার ম্যানেজমেন্টের লোকজন বা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে শারিরীক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।

প্রতিবেদনে এইচ আর ডব্লিউ বাংলাদেশ সরকার, কারখানার মালিক এবং পশ্চিমা ক্রেতাদের প্রতি আহবান জানান যেন তারা শ্রমিকদের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখায় এবং মালিক ও সুপারভাইজারদের হামলার শিকার থেকে শ্রমিক নেতাদের রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।  

কেবি