চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত ১৭৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাসটি। বাদ যায়নি বাংলাদেশেও।  

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অনেক মসজিদে নামাজ বন্ধ করা হলেও বাংলাদেশে ব্যতিক্রম হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) জুমা নামাজের সময় রাজধানীর মসজিদগুলোতে মুসল্লীদের ঢল দেখা গেছে। তবে করোনার সংক্রমণ এড়াতে মুসল্লিদের বাসায় অজু করে সুন্নত নামাজ পড়ে জুমা আদায়ে মসজিদে আসার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

করোনায় যেন বাংলাদেশ সুরক্ষিত থাকে সে কামনায় শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ভারপ্রাপ্ত খতিব মুফতি মাওলানা এসানুল হক জিলানী। মোনাজাতে বিশ্বের সব দেশকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।

মোনাজাতের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন সাধারণ মুসল্লিরা।

এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদের ইমাম ও খতিবরা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত রাখতে আল্লাহর কাছে বিশেষ দোয়া করেন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আনিস মাহমুদ এক বার্তায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে বাসায় অজু করে সুন্নত নামাজ পড়ে মুসল্লিদের জুমা আদায়ে মসজিদে আসতে বলেন।

বার্তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় এর সংক্রমণ এড়াতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের জনসমাগম পরিহারসহ বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া যারা বিদেশফেরত জ্বর-হাঁচি কাশিতে আক্রান্ত ও অসুস্থ ব্যক্তি, তাদের মসজিদে বা জনসমাগমে যাওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এ বার্তায়।

করোনার কারণে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ যেকোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বা জনসমাগমে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সচিবালয়ের কেবিনেট ডিভিশন থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৭৮ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭২২ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৬ হাজার ৫৪ জন। এরই মধ্যে বিশ্বের ১৭৬ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশে করোনার থাবায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন।

এমবি