মালয়েশিয়ায় নির্মাণাধীন উড়াল সড়কের কংক্রিটে চাপা পড়ে নিহত তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের দুইজনের বাড়িই পাবনার জয়নগর গ্রামে। স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তারা বিদেশ গেলেও আজ তাদরে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
মাত্র চার মাস আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই বন্ধু আলাউদ্দিন মল্লিক ও এলাহি হোসেন। কিন্তু ভ্যাগ্যের নির্মমতা আজ তাদের নিয়ে গেছে না ফেরার দেশে। উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে শোকে বিহবল স্বজনরা। দুই ছেলে ও এক শিশু কন্যাকে নিয়ে আলাউদ্দিনের স্ত্রী শম্পা খাতুন শোকে স্তব্ধ। জমি বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়া গিয়েছিল দুইজন।
জয়নগর মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার কারিগরের ছেলে এলাহি হোসেন। তাদের বাড়িতেও চলছে মাতম। নিহত আলাউদ্দিন মল্লিকের ছোট ভাই জালাল উদ্দীন বলেন, ভাইয়ের ছোট ছোট তিনটি ছেলেমেয়ে রয়েছে। ভাইকে হারিয়ে পরিবারের সবাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
নিহতের স্ত্রী জানান, দুর্ঘটনার আগের দিনেও তার সঙ্গে কথা হয়েছিল। তার স্বপ্ন ছিলো সন্তানদের মানুষের মত মানুষ করার। স্বামীকে হারিয়ে এ স্বপ্ন পূরণ হবে কি না তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্ত্রী স্বপ্না।
নিহতের মা এই সংবাদ জানার পর থেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। মৃত্যুর আগেও কথা হয়েছে মায়ের সঙ্গে। খোঁজ-খবর নিয়েছেন মায়ের। বাবা শাহাদত মল্লিক ঘটনা শোনার পর থেকেই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন।
ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে বন্ধুর সঙ্গে পাড়ি জমান এলাহি। চার ভাইয়ের মধ্যে এলাহী সবার ছোট। সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় মুর্চ্ছা যাচ্ছেন এলাহির বৃদ্ধ মা আকলিমা খাতুন।
এলাহির মা জানান, ছেলের স্বপ্ন ছিলে বাড়ি করা। দুই বছর পর দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল। স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। পূরণ করতে পারলো না মনের ইচ্ছেগুলো।
এলাহির ভাই মিলন বলেন, ও কষ্টের কোনো কথাই কখনও আমাদের সঙ্গে বলতো না।
বড় ভাই মিজানুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কেন জানালো না ও ফ্লাইওভারের কাজ করে। কেন জানালো না। ভাই তুই একবার যদি বলতি আমি এই কাজ করি। তাহলে তোকে আমি ওখানে রাখতাম না।’
এলাহির বাবা আব্দুস সাত্তারের বলেন, যারা আমার ছেলেকে মালয়েশিয়া নিয়ে গেছে তারা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কথা ছিল ছেলেকে সেখানে প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে কাজ দেবে। অথচ কাজ দিয়েছে ফ্লাইওভার নির্মাণের। ছেলেকে হারিয়েছি।
পাবনা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের জনশক্তি জরিপ অফিসার মোখলেছুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তাদের লাশ ঢাকায় পৌঁছেছে।
গত ১৮ অগাস্ট রাতে কোটা দামানসারা এলাকায় নির্মাণাধীন একটি অবকাঠামোর (মনোরেল) ৪৯০ টন ওজনের একটি স্প্যান ভেঙে নিচে পড়লে চাপা পড়েন তিন বাংলাদেশি। নিহত আরেকজন হলেন মুন্সীগঞ্জের মোহাম্মাদ ফারুক খান (৩৮)।
ঢাকা, ২১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





