জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদের সদ্য বিভক্ত দুই পক্ষই নিজেদের দলের প্রকৃত কর্ণধার ও ‘মশাল’ প্রতীক দাবি করছে। এ অবস্থায় বুধবার (০৬ এপ্রিল) দুই পক্ষের শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সম্প্রতি দলটির কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায় জাসদ।
শরীফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বে একটি পক্ষ কাউন্সিলে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল থেকে বের হয়ে যায়। তারা নতুন একটি কমিটি গঠন করে, যেখানে তাকে সভাপতি, নাজমুল হক প্রধানকে সাধারণ সম্পাদক এবং মঈনুদ্দীন খান বাদলকে কার্যকরী সভাপতি করা হয়। এ কমিটির তালিকা ইসিতে পাঠিয়ে এই পক্ষ চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তাদের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ‘মশাল’ প্রতীক দেওয়ার দাবি জানায়।
এদিকে অপর পক্ষটি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে সভাপতি এবং শিরীন আখতারকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করে। তারাও ইউপি নির্বাচনে তাদের সমর্থিত ২৭ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ‘মশাল’ প্রতীক দেওয়া দাবি জানায়।
এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ায় উভয়পক্ষের শুনানি করে মশাল প্রতীক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতারকে বুধবার বেলা ১১টায় শুনানিতে উপস্থিত হতে বলেছে ইসি। অন্যপক্ষের মঈনুদ্দীন খান বাদল ও নাজমুল হক প্রধানকে বিকাল ৩টায় শুনানিতে ডেকেছে সংস্থাটি।
ইসি’র নির্বাচন সহায়তা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ইসির চাহিদা সাপেক্ষে দুই পক্ষই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত জমা দিয়েছেন। এগুলো বিশ্লেষণ এবং তাদের বক্তব্য শুনে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে ‘মশাল’ কার হাতে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলছেন, ২০০৮ সালে দলটি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন নিয়েছে। সে সময় তাদের ১৩ নম্বর দল হিসেবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছিলো। তাই অবিভক্ত থাকাকালে দলটির কার্য০নির্বাহী সদস্যরা কোন পক্ষে বেশি, সেটি শুনানিতে বেশি প্রাধান্য পাবে। এছাড়া কোন পক্ষে সংসদ সদস্য বেশি, সেটাও আমলে নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ইসি’র সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, কমিশন শুনানি করে পরে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।
এদিকে ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ মঙ্গলবার (০৫ এপ্রিল) থেকেই শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি’র জ্যেষ্ঠ সহাকারী সচিব মিজানুর রহমান জানান, সম্পূর্ণ গেজেট প্রকাশ করতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।
এম আর





