যশোরে শিবির কর্মী রেজুয়ানকে গ্রেপ্তারের পর ২ মাসেও সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ এবং অনতিবিলম্বে তার সন্ধান দাবী করে বিবৃতি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল ইয়াছিন আরাফাত বলেন, শিবির কর্মী রেজুয়ানকে নিয়ে চরম দায়িত্বহীনতা ও অমানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে পুলিশ। গত ৪ জুলাই দুপুর ১২টায় বেনাপোল পোর্ট সংলগ্ন দূর্গাপুর বাজার থেকে কোন কারণ ছাড়াই গ্রেপ্তার করা হয় শিবির কর্মী রেজুয়ানকে। খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে।
আজ (মঙ্গলবার) একপ্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে একাধিক বার বিৃবতি প্রদান করা হয়। পরিবারের সদস্যরা বার বার আইনশৃঙ্খলা বাহীনির দারস্থ হচ্ছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোন খোঁজ বা আদালতে তোলেনি পুলিশ। উল্টো রহস্যজনক ভাবে তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।
অথচ তাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে দোকান কর্মচারী, মালিকসহ অসংখ্য মানুষের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, রেজুয়ান ঢাকায় ডিবি হেফাজতে আছে।
একজন মেধাবী ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে অস্বীকার করা এবং অমানবিক ভাবে তাকে দীর্ঘদিন পরেও আদালতে না উঠানো কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না বরং তা সরাসরি প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন। পুলিশের এই নির্মম তামাশায় তার পরিবারের সুখ-শান্তি কেঁড়ে নিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্ররা এখন নিজেদের জান-মাল নিয়ে শঙ্কিত।
একজন ছাত্রকে গ্রেপ্তারের পর ২ মাসেও আদালতে হাজির না করার কোন যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। আমরা আশঙ্কা করছি, তাকে নিয়ে কোন গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে সরকার। একই সাথে নানা শঙ্কা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ সম্প্রতি যশোরে এমন ভাবে দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তারের পর অস্বীকার করে পরে রাতের আঁধারে পায়ে গুলি করেছে পুলিশ। পুলিশের বেআইনি আচরণে তার পরিবারের সাথে সাথে আমরাও গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতি এমন নির্মম ও অমানবিক তামাশার সমাপ্তি দেখতে চায়। নিরপরাধ ছাত্রদের টার্গেট করে এমন অমানবিকতা মেনে নেয়া যায়না। আমরা পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি আহবান রেখে বলতে চাই, পুলিশের পোষাকে এই বেআইনি কর্মকান্ডে দেশের মানুষ চরম ভাবে বিরক্ত ও ক্ষুদ্ধ। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, শিবির কর্মী রেজুয়ানকে নিয়ে কোন প্রকার নাটক বা তার সামান্যতম ক্ষতি ছাত্রশিবির মেনে নিবে না। অবিলম্বে আমরা গ্রেপ্তারকৃত শিবির কর্মী রেজুয়ানের অবস্থান নিশ্চিত ও তাকে আদালতে হাজিরের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা উচ্চ আদালতের দারস্থ হতে বাধ্য হব।
এসএ





