কুয়াকাটার মৎস্যবন্দর মহিপুরে ভূমি বন্ধোবস্তের দুই যুগ পরও দখল পাচ্ছে না সত্তররোর্ধ ছালেক হাওলাদার।

বন্ধোবস্তকৃত জমি সহ সরকারী প্রায় ২ একর জমি স্থাণীয় প্রভাবশালী একটি চক্র অবৈধ ভাবে দখলে রাখে। ভোগ দখল না করার পরও জোরপূর্বক জমি দলিল করে দেয়ার জন্য চাপসৃষ্টি করা, বন্ধোবস্ত বাতিলের ও জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছে দখলদাররা।

একই বাপের ঔরস জাত আপন ছোট ভাইয়েরা নিজ ভোগদখলীয় জমি দখল করে নেয়া সহ গরীব ও অসহয় এই পরিবারটিকে গ্রাম থেকে বার বার উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে। বন্ধোবস্তকৃত জমিই এখন কাল হয়ে দাড়িয়েছে।

জীবনের শেষ বয়সে এসেও একমাত্র কন্যা সন্তানকে নিয়ে এখন নিরাপত্তাহীনতা ও আতংকে ভূগছেন । প্রভাবশালীদের অনৈতিক দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসও তদন্তের নামে বার বার হয়রানী করছেন বলে আক্ষেপের সাথে বৃদ্ধ মোঃ ছালেক হাওলাদার ও তার স্ত্রী জয়নব বিবি সাংবাদিকদের জানান।

জানা যায়,মৎস্যবন্দর মহিপুর ইউনিয়নের ২৬ নং জেএল শিববাড়িয়া মৌজায় ১নং খাস খতিয়ানের ২৯৩৫ নং দাগে ১ একর ৫০ শতাংশ জমি ৪৮৭/ কে ১৯৮৯-৯০ নং বন্ধোবস্ত কেস মুলে বিপিনপুর গ্রামের মোঃ ছালেক হাওলাদার ও তার স্ত্রী মোসাঃ জয়নব বিবি’র নামে জেলা প্রশাসক বন্ধোবস্ত প্রদান করেন।

বন্ধোবস্ত কেসটি ২০০০ ইং সালের ফ্রেরুয়ারী মাসের ২৭ তারিখে ৬৬৮ নং কবুলিয়ত রেজিষ্টিকৃত দলিল মূলে ৩৯৫ নং খতিয়ান ও ২৯৫৩ নং নতুন দাগ খোলা হয়। শর্ত ভঙ্গের কোন কারন ছাড়াই ভূমি বন্ধোবস্তের পর থেকে বন্ধোবস্ত বাতিলের জন্য জেলা প্রশাসক,উপজেলা ভূমি অফিস বরাবরে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোঃ নোয়াব হাওলাদার ও মাহবুব ঘরামী ও শহিদ হাওলাদারের নেতৃত্বে দখলবাজরা একাধিকবার আবেদন করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বন্ধোবস্তকৃত জমি নাম মাত্র মূল্যে দলিল করে দিতে বার বার চাপ সৃষ্টি সহ শাররীক ও মানুষিক ভাবে হয়রানী করে আসছে অসহায় এই পরিবারটিকে।

বন্ধোবস্ত গ্রহীতা মোঃ ছালেক হাওলাদার (৭৮) ও তার স্ত্রী জয়নব বিবি (৭৫) সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন যে, তারই আপন ছোট ভাইয়েরা গ্রামের কতিপয় দখলবাজদের নিয়ে জেলা প্রশাসক কর্তৃক বন্ধোবস্তকৃত জমি অবৈধ ভাবে দখল করে রাখে। বন্ধোবস্তের জমি দলিল করে দেয়ার জন্য চাপসৃষ্টি করে ব্যর্থ হয়ে তাদেরকে জমি থেকে উৎখাত,শাররীক,মানসিক ও জীবন নাশের হুমকি সহ নানা ভাবে হয়রানী করে আসছে প্রতিনিয়ত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্ত হলে তারা প্রভাবশালীদের প্ররোচনায় উল্টো বন্ধোবস্ত গৃহীতাদের জমি ছেড়ে দিতে চাপ সৃষ্টি করছে।

জয়নব বিবি জানান, দখলবাজরা প্রত্যেকেই সম্পদশালী হওয়া সত্তেও বন্ধোবস্তের জমি সহ আরো প্রায় ২ একর সরকারী খালের খাঁস জমি দীর্ঘ বছর ধরে দখল করে রাখলেও ভূমি কর্তৃপক্ষের সে দিকে নজর নেই।

একদিকে জমি দখল না পাওয়া অপরদিকে জোরপূর্বক দলিল করে দেয়ার জন্য শাররীক ও মানসিক চাপ সইতে না পেরে অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান তাদেরকে আশ্বস্থ করেন জমি বুজিয়ে দেয়ার জন্য। জেলা প্রশাসক সহ ভূমি মন্ত্রনালয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অসহয় এই পরিবারটি।

এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মোতালেব তালুকদার সাংবাদিকদের জানান,বন্ধোবস্ত গৃহীতারা জমি জবর দখল ও হয়রানীর অভিযোগে আমার কাছে একটি আবেদন করেছেন।

বন্ধোবস্তকৃত জমি অনেক পূবেই হস্তান্তর যোগ্য হয়েছে। বন্ধোবস্ত বাতিল বা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যারা দখলে আছে তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা জমির পরিবর্তে জমি অথবা সমপরিমান মূল্যে পরিশোধ করার মাধ্যমে ফয়সালার জন্য তিনি চেষ্টা করবেন,যাতে গরীব ও অসহয় ওই পরিবারটি সূখে শান্তিতে বসবাস করতে পারেন সেই চেষ্টা তিনি করছেন।

এআই