রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ৭ অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ ক্যাডারকে আটকের পর পুলিশ তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার রাত ২টার দিকে রামেকের পিংকু হোস্টেল থেকে তাদের আটকের পর বৃহস্পতিবার সকালে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমানও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি বলে দাবি করেছেন ওসি।
অন্যদিকে হোস্টেলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, একটি বন্দুক, একটি এয়ারগান ও বেশকিছু দেশীয় অস্ত্রসহ ওই ছাত্রলীগ নেতাদের আটক করেছিল পুলিশ।
রামেক সূত্র জানায়, রামেকের লিয়োক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও রামেক শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী বিজয় হোসেনের সঙ্গে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন এবং কাজী সালমানের আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছে। তারা সবাই রামেকের পিংকু হোস্টেলে থাকেন।
বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিজয় হোসেন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তার লিয়োক্লাবের অনুষ্ঠান শেষে হোস্টেলে ফিরছিলেন। এ সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে আরমান হোসেন ও কাজী সালমানসহ আরো কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা তাকে হোস্টেলের সামনে থেকে ধরে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। তারপর কক্ষে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে বিজয় হোসেনকে বেদম মারপিট করা হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ সময় হোস্টেলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এরপরই খবর পেয়ে নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ রামেকের পিংকু হোস্টেলের ০০৭ নম্বরের আরমান-সালমান কক্ষটিতে অভিযান চালায়। এসময় উদ্ধার করা হয় একটি বন্দুক, একটি এয়ারগান ও বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র। ওই কক্ষ থেকে আরমান ও সালমানসহ আটক করা হয় ছাত্রলীগের আরো অন্তত ৫ নেতাকর্মীকে।
তারা হলেন- রামেক ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পল্লব হোসেন, ছাত্রলীগ কর্মী ও বিডিএফ ২৬তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাব্বি, এমবিবিএস ৫৬তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অনিক হোসেন, একই বর্ষের মুশফিক হোসেন ও এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্র নাহিদ হোসেন।
সারারাত তারা রাজপাড়া থানা হাজতেই কাটান। তবে সকালে রামেক অধ্যক্ষের সমঝোতায় তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মাসুম হাবিবের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন না ধরে কেটে দেন। তাই এ ব্যাপারে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত হলে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি বলেও দাবি করেন ওসি।
এ ব্যাপারে কথা বলতে ছাত্রলীগ নেতা আরমান হোসেন ও কাজী সালমানের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের দুজনেরই মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে মারধরের শিকার রামেক ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আরমান ও সালমান তাদের অনুসারীদের নিয়ে হোস্টেলে অবাধে মাদকসেবন ও অস্ত্রবাজিসহ নানা কর্মকাণ্ড চালান।
রামেক শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ওই ৭ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনে তাদের বরখাস্ত করা হবে।
এমই





