আগামী ৭ মে কালিয়ার নড়াগাতি থানার ৬টি ইউনিয়নের নির্বাচন। এর মধ্যে কলাবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মাহামুদুল হাসান বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি পাঁচটি ইউনিয়নে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে আ’লীগ প্রার্থীরা কোন ঠাসা হয়ে পড়েছেন।
এ পাঁচটি ইউনিয়নে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ১৫ জন। চারটি ইউনিয়নে বিএনপি ও একটিতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী থাকলেও তারা নির্বাচনী মাঠে নেই।
বিএনপি নেতারা বলেছেন, রাজনৈতিক চাপের কারনে তাদের প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে দাড়াতে পারছেন না।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, কলাবাড়িয়া: কলাবাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাহামুদুল হাসান বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
জয়নগর: জয়নগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী চৌধূরী আলাউদ্দিন। আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী আয়ুব আলী কোমর বেধে মাঠে নেমেছেন।
খাশিয়াল: খাশিয়াল ইউনিয়নের আ’লীগ প্রার্থী এসএম খাজা নাজিমুদ্দিন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদ শিকদার, কে এম মশরিকুর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলী ও খান রাসেল জোরে শোরেই নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।
মাউলি: মাউলী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী সুদিপ্ত কুমার দাশ বিলাশ। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ হাদিউজ্জামান, বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ ফিরোজ খান, মো. জিল্লুর রহমান, ও সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সি জহুরুল হক রাত দিন প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাঐসোনা: বাঐসোনা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শাহ মো. ফোরকান মোল্যা। ইসলামী আন্দোলনের প্রাথী শেখ ইকরামুল, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফকরুল আলম, টিপু সুলতান ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ফিরছেন। কয়েকদিন আগে আ’লীগ প্রার্থী ফোরকান মোল্যা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ চুন্নু শেখের সমর্থক ও পুলিশের ত্রি-মূখী সংঘর্ষের ঘটনায় মামলায় জড়িয়ে আ’লীগ প্রার্থী বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। আ'লীগ প্রার্থী ফোরকান মোল্যা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরলেও বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ চুন্নু শেখ এলাকায় ফিরতে পারেননি।
পহরডাঙ্গা: পহরডাঙ্গা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম। আ' লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোল্যা মোকারম হোসেন হিরু, মো. মামুন হোসেন, তারিকুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দিতা করে আ’লীগ প্রার্থীকে বেশ চাপের মুখে ফেলে দিয়েছেন।
তবে কালিয়া আ’লীগের বর্ষিয়ান নেতা সালাহ উদ্দিন বশির আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, স্থানীয় একজন প্রভাবশালী আ’লীগ নেতা মনোনয়ন প্রাপ্ত অধিকাংশ প্রার্থীর বিরোধিতা করছেন। তারপরও আ’লীগ প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
অপরদিকে বাঐসোনা ইউপিতে মো. লাভলু মোল্যা, জয়নগর ইউপিতে আবুল হোসেন খান, মাউলি ইউপিতে এসকে এম সাজ্জাদ হোসেন ও খাশিয়াল ইউপিতে মোঃ মামুন খান বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। এবং বাঐসোনা ইউপিতে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন শেখ ইকরামুল। ওই সব প্রার্থীদের প্রচার প্রচারনায় দেখা যাচ্ছেনা বলে জানান সাধারন ভোটাররা।
মাউলি ইউপির বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান এসকে এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, গ্রেফতার, হুমকি সহ নানা চাপের কারনে তার কর্মী সমর্থকরা প্রকাশ্যে প্রচারনা চালাতে পারছে না। তিনি একা নিরবে প্রচারনা চালাচ্ছেন।
কালিয়া উপজেলা বিএনপির নেতা নওয়াবুল আলম জানান, তাদের দলীয় প্রার্থীরা রাজনৈতিক প্রতিকুলতা সহ নানা মূখী চাপের কারনে ঠিকমত প্রচার-প্রচানা চালাতে পারছেন না।
এমবি





