গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহতদের কবর জিয়ারত করেছেন তাদের আত্মীয়-স্বজনেরা।

রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাদের স্বজন ছাড়াও সাধারণ মানুষ নিহত ওসি সালাহউদ্দিন, অবিন্তা কবির ও ফারাজ আইয়াজ হোসেনের কবর জিয়ারত করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ফারাজের নানা ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান, বন্ধু মাসুম, মামা রিয়াজ ও দাদাসহ প্রায় ১০ জন আত্মীয় আসেন কবর জিয়ারত করতে। এ সময় নাতির জন্য দোয়া চেয়ে নানা ও দাদা দুজনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারাজ ইংরেজি মাধ্যমের যে স্কুলটিতে পড়তেন, সেখানকার দুজন শিক্ষার্থী কবর জিয়ারত করতে আসেন। কবর স্থানের সি ব্লকের ১০ নম্বর সারিতে ফারাজের কবর।

সকাল ৯টায় সি ব্লকের ৩৫ নম্বর সারিতে ওসি সালাহউদ্দিনের কবর জিয়ারত করছিলেন দুজন। ব্যবসায়ী খালেকুজ্জামান বলেন, ‘আমি তার পরিবারের কেউ না। তবে তার বীরত্বের কথা শুনেছি। তাই দোয়া করে গেলাম। দেশের জন্য জীবন দেওয়ায় তিনি শহীদের মর্যাদা পাবেন, সেই দোয়া করি।’

মিরপুর থানায় কর্মরত ছিলেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন। ওই থানা সংলগ্ন মসজিদের ইমাম হেলালউদ্দিন সকাল সোয়া ১১টায় কবর জিয়ারত করতে আসেন।

তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। সব সময় খোঁজ খবর নিতেন।’

এলিগ্যান্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান রুবা আহমেদের কন্যা অবিন্তা কবিরকে দাফন করা হয়েছে সি ব্লকের ২৭ নম্বর সারিতে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে তার কবর জিয়ারত করতে আসেন কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক তাহেরুল ইসলাম।

এ ছাড়া সকাল থেকেই শতাধিক মানুষকে এই তিনটি কবর জিয়ারত করতে দেখা গেছে।

গত শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে কূটনীতিক এলাকা গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে। এ সময় অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান নিহত হন। রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা।

পরদিন শনিবার সকালে যৌথ বাহিনী কমান্ডো অভিযান চালায়। এতে ছয় হামলাকারী নিহত এবং একজন গ্রেপ্তার হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জিম্মিকে।

এমই