রিমান্ডে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যিালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা।
তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আবারো গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে আজ (০৮ আগস্ট) সকালে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ’তে নেয়া হয় শহিদুল আলমকে।
বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, আজ (বুধবার) সকালে বিএসএমএমইউ’তে আসার পর তাকে কেবিনে নেয়া হয় এবং তাৎক্ষণিক চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিসিন অনুষদের ডিন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে প্রধান করে সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম, কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান হারিছুল হক, অর্থোপেডিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরী বিরুকে নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়।
এই কমিটির নির্দেশনা আনুযায়ী শহিদুল আলমের এক্সরে, ইসিজি, ইকো, রক্ত পরীক্ষা’সহ আরও কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। তার এসব পরীক্ষা নিরীক্ষা ৫১২ নম্বর রুমে সম্পন্ন হয়। এরপর তার কয়েকটি মেডিকেল টেস্ট করানো হয়। সব টেস্টের রিপোর্ট হাতে এসেছে।
মেডিকেল টিম রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন, তিনি (শহিদুল আলম) ভর্তিযোগ্য নন। বোর্ড তাকে ডিসচার্জ করে দেন।
ড. শহিদুল আলমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশে আনা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। যেগুলো পরীক্ষা নীরিক্ষা করা হয়েছে সেগুলোতে আশঙ্কাজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
ওনার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তিনিতো হেঁটেই চলাফেরা করছেন।
এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে আজ (০৮ আগস্ট) সকাল ৯ টায় ড. শহিদুল আলমকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে আনা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে আবার পুলিশি হেফাজতে নিয়া যাওয়া হয়।
এদিকে দেখা করতে দেয়া হয়নি আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমের আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেনকে।
এবিষয়ে পুলিশ বলেছে, তিনি রিমান্ডে আছেন। তাই কাউকে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হবে না।
দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। ওই ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৬ আগস্ট ডিবি (উত্তর) পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের (পরিদর্শক) আরমান আলী। শহিদুলের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক শহিদুল আলমকে ৭ দিনের রিমান্ডে রাখার আদেশ দেন।
দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল অধিকার আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার (০৫ আগস্ট) জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেইসবুক লাইভে আসেন তিনি। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন।
এরপর রোববার রাতে শহিদুলকে তার ধানমণ্ডির বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করে হাজির করা হয় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে।
ওই মামলায় ‘কল্পনাপ্রসূত তথ্যের’মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ‘মিথ্যা প্রচার’চালানো, উসকানিমূলক তথ্য উপস্থাপন, সরকারকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর’হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি ঘটিয়ে’জনমনে ‘ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে’দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ‘অপপ্রচারের’অভিযোগ আনা হয় আলোকচিত্রী শহিদুলের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো- শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। গত (০৪ আগস্ট) রাজধানীর জিগাতলায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ। হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা সেখানে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের কাজ করছিল।
আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রথম দফা হামলা করেছে এক দল যুবক। শিক্ষার্থীদের দাবি তারা স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এসময় তাদের সঙ্গে যোগ দেন পুলিশ সদস্যরা।
হামলার প্রতিবাদে রোববার (০৫ আগস্ট) রাস্তায় বিক্ষোভে নামে আরও বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
‘নিরাপদ সড়ক চাই’দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর এই দিনও হামলা চালিয়েছে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এসময় ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত পাঁচ জন ফটো সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
এমবি





