ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, বৈধ কাজের জন্য তার মন্ত্রণালয় উন্মুক্ত থাকবে। অবৈধ কাজের জন্য মন্ত্রণালয়ের দরজা বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার ১১টা ৪০ মিনিটে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
কোনোভাবেই যাতে দুর্নীতি না হয় সেদিকে সজাগ থাকবেন বলেও তিনি জানান।
তারানা হালিম বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে সচিবসহ অন্য যারা আছেন আমি বাইরে থেকে খবর নিয়েছি তারা সততার সঙ্গে কাজ করছেন। আমি এ টিমটি শক্তিশালী করতে চাই। দুর্নীতি এখানে একেবারেই হবে না, হচ্ছে না বলে আমি খবর পেয়েছি। আমি মনে করি, এটা একটা চ্যালেঞ্জ। শক্তিশালীভাবে এটা মোকাবেলা করা হবে।’
‘এখানে ব্যক্তিগত যেসব মোবাইল কোম্পানি আছে, আমি এভাবে বলব না যে তাদের প্রবেশ নিষেধ। হয়তো তাদের কোনো বৈধ কাজ থাকতে পারে। বৈধ কাজে সবার জন্য এ মন্ত্রণালয় উন্মুক্ত থাকবে। অবৈধ কাজের জন্য এ মন্ত্রণালয়ের দরজা বন্ধ থাকবে। এটা আমি স্ট্রংলি বলতে চাচ্ছি’ বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি পৌনে ৯টার দিকে অফিসে এসেছি। সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। তারপর একটু বোঝার চেষ্টা করেছি কী কী চ্যালেঞ্জেস আছে, কী কী হার্ডলস আছে। প্রথম কী করব তা জানার আগে সমস্যাগুলো জানা প্রয়োজন।’
প্রতিমন্ত্রী এসে আগের মন্ত্রীর চেয়ারে বসেননি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রীর চেয়ারে বসতে পারি না। মন্ত্রীর চেয়ারটি সরিয়ে অন্য আরেকটি চেয়ার এনে বসেছি। অফিসটা আপাতত ব্যবহার করছি। ওনাদের বলেছি, আমার জন্য অন্যত্র একটা অফিসের ব্যবস্থা করুন। এটা মন্ত্রীর অফিস। আমি এখানে বসতে পারি না। প্রতিমন্ত্রীর কক্ষ আরেকটু ছোট, চেয়ারটাও আরেকটু ছোট হবে।’
হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য গত বছরের ১২ অক্টোবর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণ করা হয়। এ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আছেন জুনায়েদ আহমেদ পলক।
তারানা হালিম বলেন, ‘আমি মনে করি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি, এটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। ভিন্ন একটি দক্ষতার জায়গা থেকে আমি এসেছি। আমার মেধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত এ মন্ত্রণালয়ের কাজ সম্পর্কে দ্রুত জানতে পারব, সততার সঙ্গে সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে আমি কাজ করতে পারব। আমার ধারণা, এ বিশ্বাস থেকে প্রধানমন্ত্রী আমাকে এখানে দিয়েছেন। আমি অবশ্যই এ মর্যাদাটা রাখার চেষ্টা করব। মানুষেরও প্রত্যাশা আছে, তাও আমি রাখার চেষ্টা করব।’
প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে একটি ৯০ দিনের কর্ম পরিকল্পনা থাকবে জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, ‘যেটা আমরা ৯০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করব। ৯০ দিন পর রিপোর্ট হবে আমরা চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবেলা করেছি। আমি চাই না ৯০ দিন পর চলমান, চলছে, চলবে এ শব্দগুলো থাকুক। এটা আমাদের জন্য ধাক্কার মতো কাজ করবে।’
সচিব, অতিরিক্ত সচিবদের সঙ্গে বসে ৯০ দিনের অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণ করবেন জানিয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে কিছু বিষয় মনে হয়েছে করা প্রয়োজন। জনগণ আমাদের কাছ থেকে ৯০ দিনে কী সেবা চায়, সেগুলো আমরা দিতে পারছি কিনা- সে বিষয়ে আমাদের ওয়েব পেইজে আমরা জানতে চাইব। মাঝখানে ও ৯০ দিন পর ফিডব্যাগ চাইব জনগণের কাছে।’
তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে আমরা খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের ডাক বিভাগ পেছনে পড়ে আছে। ডাক বিভাগ এনালগ থাকতে পারে না। এটাকে ডিজিটালাইজড করতে যা যা করা দরকার তা করতে একটি কর্মপরিকল্পনা আমরা নেব। তাও ৯০ দিনের মধ্যে হবে।’
‘আমাদের অনেকগুলো গাড়ি (ডাক বিভাগের জন্য) লাগবে, ১১৮টি। ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সবগুলোই ভ্যান গাড়ি, তাই এগুলো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হবে না। এগুলো পেলে আমরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারব’ বলেন তিনি।
দেশের রাজস্ব দেশে রাখতে মন্ত্রণালয়ের যে যে বিভাগকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন তা আমরা করব জানিয়ে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বকেয়াগুলো যাতে আমরা আদায় করতে পারি, সেজন্য যে বাধাগুলো আছে তা দূর করতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব। প্রচুর পরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে। এটাও আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি চাইব টেলিটককে শক্তিশালী করা। এটা হলে রাজস্ব আমাদের দেশেই থাকবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। আমি প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী।’
পরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।
এএইচ





