অবৈধ ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা, প্রয়োজন না হলেও রোগীকে আইসিইউতে রেখে মোটা অংকের অর্থ আদায়, প্যাথলজি রিপোর্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে টেকনিশিয়ান স্বাক্ষর করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট (প্যাথলজি পরীক্ষার কেমিক্যাল) ব্যবহারের অভিযোগে খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমানসহ ৫ জনকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ জরিমানা করেন। র‌্যাব-১’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফিরোজ আহম্মেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। এ সময় র‌্যাব-৬’র পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নানসহ র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাবের সূত্র জানান, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ এবং র‌্যাব-৬’র দু’টি দল গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অভিযান শুরু করে। অভিযানকালে হাসপাতালের ছয়তলার প্যাথলজি থেকে ২৩ ব্যাগ রক্ত, বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্টসহ অন্যান্য ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে টেকনিশিয়ান স্বাক্ষর করা প্যাথলজি রিপোর্ট উদ্ধার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফিরোজ আহম্মেদ জানান, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকের অনুমোদন না থাকলেও এখানে অবৈধভাবে ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করা হচ্ছে। এমনকি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই প্রয়োজন না হলেও রোগীকে আইসিইউতে রেখে মোটা অংকের অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া এখানে প্যাথলজি রিপোর্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে টেকনিশিয়ান কর্তৃক স্বাক্ষরকৃত রিপোর্ট রোগীকে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, এ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ থেকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট এবং ব্লাড জব্দ করা হয়েছে। এসব অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে মালিক ডা. গাজী মিজানুর রহমান, ডা. সুভাষ কুমার সাহা, উপ-পরিচালক (প্রশাসন), ডা. এবিএম মাহবুবুল হক, প্যাথলজি ইনচার্জ জেমস তরুণ সরকার ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. বাহারুল ইসলামকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জারিফ